অতিবৃষ্টিতে সুদিন ফিরেছে সোনালী আঁশে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক মানিকগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৬:৪২ এএম, ১০ আগস্ট ২০১৭

সোনালী আঁশ খ্যাত পাটে সুদিন ফিরতে শুরু করেছে কৃষকের। বাজারে ভালো দাম আর চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় মানিকগঞ্জে দিন দিনই বাড়ছে এর চাষাবাদ। তবে বাজারে এখনও রয়েছে মধ্যস্বত্তভোগীদের দৌরাত্ম। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন পাটের সুদিন ধরে রাখতে এর বহুমুখি ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি চাষির সুযোগ সুবিধা বাড়াতে হবে।

ফসলের খেত নদী বা খালের পাড়, রাস্তার ধারে এমনকি কৃষকের বাড়ির উঠান সবখানেই পাট কাটা, ধোয়া, আঁশ ছাড়ানো এবং শুকানোর ব্যস্ততা। মানিকগঞ্জের প্রতিটি গ্রামেই এখন চিরচেনা এই দৃশ্য চোখে পড়বে। বাদ যায়নি ঢাকা-আরিচা মহাসড়কও।পাট শুকানোর জন্য বেছে নেয়া হয়েছে বিভিন্ন ব্রিজের রেলিংও।

সোনালী আঁশ কৃষককে দিয়েছে সুদিনের ডাক। তাইতো পাট বাজার উপযোগী করে তুলতেই এ জেলার কৃষক-কৃষাণীর এখন যেন দম ফেলার ফুরসত নেই।

jute

শিবালয় উপজেলার সাহেলী গ্রামের কৃষক আজগর আলী, পরাণ শেখ ও ছায়েদুর রহমান জানান, রাজধানীর পাশের এ জেলায় একসময় পাটের ব্যাপক চাষাবাদ হতো। কিন্তু একের পর এক পাট কল বন্ধ হওয়ার পর বাজারে কমে এর চাহিদা। ফলে তারা পাট চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন।

বর্তমান সরকার বন্ধ পাটকলগুলো পুনরায় চালুর পাশাপাশি পাটের বহুমুখি ব্যবহারের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছে। তাই বাজারে আবারো এর চাহিদা বেড়েছে। দামও মোটামুটি ভালো। এ কারণেই তারা আবারও চাষাবাদে আগ্রহী হচ্ছেন।

ঘিওর উপজেলার ফুলহারা গ্রামের কৃষক সোনা মিয়া জানান, এবার অতিবৃষ্টি এবং বর্ষা পাটের জন্য আশির্বাদ হয়ে এসেছে। সর্বত্র পানি থাকায় পাট পঁচাতে কোনো সমস্যা হয়নি। তবে এ কাজে রয়েছে শ্রমিক সংকট। দিনে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা দিয়েও একজন শ্রমিক মিলছে না। শ্রমিকের দাম বেশি থাকায় উৎপাদন খরচ বাড়ছে।

jute

মানিকগঞ্জের প্রায় প্রতিটি হাটেই কম বেশি পাট বিক্রি হয়। তবে তরা, ঘিওর, বরংগাইল ও ঝিটকা হাটে পাটের সবচেয়ে বড় আড়ৎ। ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার পাইকার আসেন এখান থেকে পাট কিনতে। স্থানীয় বাজারে বর্তমানে প্রতিমণ পাট বিক্রি হচ্ছে ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা ধরে। পাটের এ দামে খুশি চাষিরা।

আজগর আলী, জুলফিকার, ছোরহাব ও সাঈদ নামে কয়েকজন চাষি জানান, পাটের এ দাম ঠিক থাকলে আগামীতে পাটের চাষাবাদ আরো বাড়বে। বাজার থেকে মধ্যস্বত্তভোগীদের দৌরাত্ম কমালে তারা আরো লাভবান হতেন।

মানিকগঞ্জ জেলায় এবছর ৫ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে।অনুকূল আবহাওয়া ও পরিবেশ থাকায় পাটের আবাদ ভালো হয়েছে বলে কৃষি অধিদফতর সূত্র জানায়।

jute

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. আলীমুজ্জামান জাগো নিউজকে জানান, কৃষকদের যদি সার, ব্রিজ ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে সহযোগিতা করা যেত তাহলে তারা পাট চাষে আরও আগ্রহী হতেন।

তিনি জানান, পাটের বহুমুখি ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে পাটের সুদিন ধরে রাখা সম্ভব। এজন্য সরকারকে নানামুখি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

বি.এম খোরশেদ/এফএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।