ভুট্টার বাম্পার ফলন হলেও বাজার মধ্যস্বত্বভোগীদের দখলে


প্রকাশিত: ০৭:৪৬ এএম, ০২ জুন ২০১৫

ঠাকুরগাঁওয়ে চলতি বছর ভুট্টার বাম্পার ফলন হয়েছে। চাষিরা আগাম ফসল কাটতে শুরু করায় বাজারে আসতে শুরু করেছে নতুন ভুট্টা। কিন্তু বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে মধ্যস্বত্বভোগীরা। তাদের তৎপরতায় কৃষক উৎপাদিত ফসল কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

ঠাকুরগাঁওয়ে চলতি মৌসুমে ১৮ হাজার ৮শ’ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ করা হয়েছে। গত বছর ভুট্টার আবাদ হয়েছিল ১৭ হাজার ৮৯৪ হেক্টর জমিতে। অর্থ্যাৎ চলতি মৌসুমে অনেক বেশি জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছে।

সদর উপজেলার কৃষক আমিনুল ইসলাম জানান, এ বছর ফলন অনেক ভালো হয়েছে। তবে আমাদের কাছ থেকে যারা কিনছে তারা দাম দিতে চাচ্ছে না। এ ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি সুদৃষ্টি দেয় তবে আমরা ন্যায্য দাম পাব।

ভুট্টা চাষী মামুনুর রশিদ জানান, ভুট্টার ফলন ভালো হলেও বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে কম দামে। বেশি দামের আশায় থাকলে অন্য ফসল চাষ করা হবে না।

ভুট্টা চাষীরা আরো জানান, গতবারের তুলনায় অনেক কম দামে বর্তমানে ভুট্টা বিক্রি হচ্ছে। সে কারণে ভুট্টা পাকার পরও অনেক কৃষক তা কাটতে উদ্যোগী হচ্ছেন না। পাকা ভুট্টা জমিতে বেশিদিন রাখা যায় না। কিন্তু বাধ্য হয়েই জমিতে রেখেছেন অনেকে।

তারা অভিযোগ করেন, অনেক ব্যবসায়ী ভুট্টা এখন কিনে মজুদ করে রাখছেন। পরে তারা চড়া দরে বিক্রি করবেন। কিন্তু আমরা কৃষকরা সেই বেশি দামের সুফলটা পাব না।

ভুট্টা ব্যবসায়ী সুমন চৌধুরী জানান, আমরা গ্রাম থেকে ভুট্টা কিনছি। বর্তমানে মাড়াই করার পর পরই কাঁচা ভুট্টা সর্বোচ্চ ৫৫০ টাকা আর শুকনো ৬৫০ টাকা দরে কিনছি। বাজারে শুকনো ভুট্টা ৬৫০/৬৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আমরা বাজার হিসাব করে ভুট্টা কিনছি।

ঠাকুরগাঁও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক আরশেদ আলী জানান, এ বছর জেলায় ১৮ হাজার ৮ শত হেক্টর জমিতে ভুট্টার চাষ হয়েছে এবং বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু বর্তমান বাজার দর নিয়ে কৃষক হতাশায় দিন পার করছেন। এই এলাকাতে বেশ কিছু মুরগির ফার্ম গড়ে ওঠার কারণে ধান আবাদের চেয়ে ভুট্টা চাষ বেশি হচ্ছে।

এসএস/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।