মানিকগঞ্জে উপজেলা পরিষদ চত্বরে হাঁটু পানি
পদ্মা-যমুনাসহ জেলার অভ্যন্তরীণ নদীগুলোতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় মানিকগঞ্জের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। প্রতিদিনিই প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা।
বুধবার দুপুরে পানি ঢুকে পড়েছে হরিরামপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে। সেখানে এখন হাটু সমান পানি। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সেবা গ্রহীতারা। এছাড়া হরিরামপুর-মানিকগঞ্জ সড়কের কয়েকটি স্থান ভেঙে যাওযায় উপজেলা সদরের সঙ্গে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে হরিরামপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আবুল বাসার সবুজ জানান, তার এলাকায় অনেক বাড়িঘর এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও পানি উঠেছে। যমুনার পানি বেড়ে বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে জেলার দৌলতপুর, ঘিওর ও শিবালয় উপজেলাও। এসব এলাকার বিশেষ করে চরাঞ্চলের প্রায় বাড়িঘরেই এখন পানি। তলিয়ে গেছে রাস্তা-ঘাটও।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের সূত্র মতে, বুধবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত যমুনা নদীর পানি আরিচা পয়েন্টে বিপদসীমার ৬৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
এদিকে বন্যা মোকাবেলায় ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কমিটির সঙ্গে প্রস্ততি সভা করেছেন মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক। দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক নাজমুছ সাদাত সেলিম জানান, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় মানিকগঞ্জের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। দৌলতপুর, শিবালয় ও হরিরামপুর উপজেলার চরাঞ্চলের বেশির ভাগ বাড়িতেই পানি উঠে যাওয়ায় লোকজনের জন্য আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বন্যার্তদের জন্য দৌলতপুরে ১০ টন চাল ও ৭৫ হাজার টাকা, শিবালয়ে ৫ টন চাল ও ৫০ হাজার টাকা এবং হরিরামপুরে ৫ টন চাল ও ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বন্যাকবলিত মানুষের তালিকা তৈরির কাজ চলছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।
বি.এম খোরশেদ/আরএআর/জেআইএম