মুক্তিযোদ্ধার জমি দখল, ইউপি সদস্যসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা
লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইসলামের জমি দখল করে ৪টি দোকান ঘর নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্য (মেম্বার) ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে।
উপজেলার পূর্ব চর কলাকোপা গ্রামের (সৈয়দনগর) ওই জমিতে দোকান নির্মাণের ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৪ আগস্ট) অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (রামগতি) ইউপি সদস্যসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। আদালত সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের তহশিলদারকে ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়।
শুক্রবার উপজেলার পূর্ব চরসীতা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইসলাম জানান, তিনি চরবাদাম ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার। সরকার তাকে ৯৯-২০০০ সালে ৪৮৪ নম্বর খতিয়ানে ৩৪ নম্বর দাগে ৩২ শতাংশ জমি বন্দোবস্ত দেয়।
এরপর থেকে তিনি জমিতে চাষাবাদ করে আসছেন। গত ২৩ আগস্ট ওই জমিটির একাংশে রামগতি-সোনাপুর সড়কের পাশে স্থানীয় ইউপি সদস্য সেকান্তর আলম, তার বাবা সৈয়দ আহমেদ, ভাতিজা যুবলীগ নেতা ইব্রাহিম সহযোগীদের নিয়ে রাতারাতি ৪টি টিনসেড দোকান ঘর নির্মাণ করে। এ নিয়ে থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ করা হলেও তারা কর্ণপাত করেনি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মুক্তিযোদ্ধার বন্দোবস্ত পাওয়া জমিটির ওপর স্থানীয় সৈয়দ আহমেদের কুনজর পড়ে। এরপর তারা একাধিকবার দখলের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়।
এতে ২০০৫ সালে ওই বন্দোবস্তটি সঠিক নয় বলে সৈয়দ আহমেদ জেলা আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। এটি এখন বিচারাধীন।
মুক্তিযোদ্ধার নাতি মুশফিক মাহমুদ বলেন, জমিটি আমিই তদারকি করি। জোরপূর্বক সৈয়দ আহমেদ ও তার লোকজন আমাদের জমিতে দোকান ঘর নির্মাণ করেছে। এ নিয়ে আমি ইউপি সদস্যসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছি। জমি থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ ও আমাদেরকে ফের বুঝিয়ে দিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাইছি।
এ ব্যাপারে সৈয়দ আহমেদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তবে তার ছেলে চর পোঁড়াগাছা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (মেম্বার) সেকান্তর আলম বলেন, তাজুল ইসলাম জমি বন্দোবস্ত নিয়েছে তা সত্য। তবে এটি আমাদের জমি। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। আমাদের জমিতে দোকান করেছি।
এ ব্যাপারে রামগতি থানা পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শহিদুল আলম বলেন, দোকান নির্মাণ করার ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। জমির মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। উভয়পক্ষকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বলা হয়েছে।
কাজল কায়েস/এএম/আইআই