বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি গাইবান্ধা
প্রকাশিত: ০৫:১৮ এএম, ২৯ আগস্ট ২০১৭

বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়া জমিতে আবারও ধানের চারা লাগাচ্ছেন গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার চরাঞ্চলের কৃষকরা। প্রস্তুত করছেন জমি। তৈরি করা হচ্ছে বীজতলা। ধানের চারা না পেয়ে আবার অনেকেই বন্যায় নিমজ্জিত চারাই রোপণ করছেন। ফলে লাভের আশা না থাকলেও শুধু গবাদিপশুর খড়ের জন্য হলেও নেতিয়ে যাওয়া এসব ধানের চারা জমিতে রোপণ করছেন কৃষকরা।

ফজলুপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, বাড়ি থেকে বন্যার পানি নেমে গেলেও এখনো অনেক এলাকাতে জেগে ওঠেনি ফসলি জমি। ফলে কৃষকরা চাষাবাদ শুরু করতে পারছেন না। কিছু জমি থেকে পানি নেমে যাওয়ায় সেসব জমিতে বীজতলা তৈরি করছেন কৃষকরা।

পূর্ব খাটিয়ামারি গ্রামের আয়নাল হক (৩৫) বলেন, বন্যায় আমন ধানের জমি নষ্ট হয়ে গেছে। এবার এখনো জমি থেকে পানি নেমে যায়নি। ধানের চারা রোপনের সময় পেরিয়ে যাচ্ছে। এবার কখন জমিতে ধানের চারা রোপণ করবো বুঝতে পারছি না। ধানের বদলে অন্য ফসল ফলাতে হবে বলে মনে হচ্ছে।

ফুলছড়ি উপজেলার ফুলছড়ি ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা জমিতে ধানের চারা লাগানোর জন্য জমি চাষ করছেন। অনেকে জমিতে ধানের চারা লাগাচ্ছেন, জমিতে বীজতলা তৈরি করছেন।

gaibandha

বাজে ফুলছড়ি গ্রামের কৃষক সোনা মিয়া বলেন, নিজের বীজতলার ধানের চারা তিন বিঘা জমিতে রোপণ করতে প্রায় আট হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। বন্যার কারণে সব নষ্ট হয়ে গেছে। আবারও ধানের চারা লাগানোর জন্য জমি চাষ করছি। ঋণ নিয়ে ধানের চারা নিতে হবে। এবার আমন মৌসুমে ব্যয় বেশি হবে কিন্তু লাভ হবে না।

একই গ্রামের কৃষক শামসুল হক (৭০) বলেন, আমার চার বিঘা জমির ধান বন্যার পানিতে তলিয়ে থাকায় সব নষ্ট হয়ে গেছে। সে সময় খরচ হয়েছিল চার হাজার টাকা। এর মধ্যে বন্যায় কোনো কাজ না থাকায় ঘরে জমানো টাকা খরচ করে খেয়েছি। এক গোন্ডা ধানের চারার দাম ৬০০ টাকা। এবার সেই জমিতে ফসল ফলাতে প্রায় ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা খরচ হবে। ঋণ নিয়ে ফসল ফলাতে হবে।

কৃষক সালাম মিয়া (৪০) বলেন, গত শুক্রবার জমিতে ধানের বীজ বপণ করেছি। জমিতে বেশি পানি থাকার কারণে সেচ দিয়ে পানি বের করে দিতে হচ্ছে। এই বীজতলায় চারা তৈরি হলে তারপর জমিতে তা রোপণ করব। বন্যার কারণে জমিতে ধানের চার রোপণে দেরি হচ্ছে। ফসল যে কেমন হবে বলতে পারছি না।

gaibandha

ফুলছড়ি গ্রামের আব্দুল কাদের বলেন, বন্যার আগে জমিতে ধানের চারা রোপণ করেছিলাম। বন্যার পানিতে সব তলিয়ে থাকায় নষ্ট হয়ে গেছে। ধানের চারার দাম বেশি হওয়ায় নেতিয়ে পড়া ধানের চারাই জমিতে লাগাচ্ছি। ধান ভালো না পাওয়া গেলেও গরুর খাবার হিসেবে খড় পাওয়া যাবে।

ফুলছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান মুঠোফোনে জাগো নিউজকে বলেন, রোপা আমণ ধানের চারা রোপণের উপযুক্ত সময় হচ্ছে শ্রাবন-ভাদ্র মাস। এখনো সময় আছে চারা রোপণ করা যাবে। এ ছাড়া বন্যার পানি নেমে গেলে ব্রি ধান-২৮ ও গানজিয়া ধানের চারা রোপণ করা যাবে। ইতিমধ্যে ১৪০ জন কৃষকের মাঝে ১৬০ বিঘা জমির জন্য ধানের চারা ও ৬০ বিঘা জমির জন্য ধানের বীজ বিতরণ করা হয়েছে।

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আ কা মো. রুহুল আমিন মুঠোফোনে জাগো নিউজকে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করা হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে কৃষকদের মাঝে তার তা বিতরণ করা হবে। এ ছাড়া জেলায় ১৫০ জন কৃষকের মাঝে ধানের বীজ ও ৬০০ জন কৃষকের মাঝে ধানের চারা বিতরণ করা হবে।

রওশন আলম পাপুল/আরএআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।