গাইবান্ধায় শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় ব্যস্ত মানুষ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি গাইবান্ধা
প্রকাশিত: ১২:০৫ পিএম, ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৭

রাত পোহালেই ঈদ। তাই মানুষ সকাল থেকেই ছুটছে পশুর হাট, শপিং সেন্টার ও দোকানে। পছন্দমতো কিনছে কোরবানির জন্য গরু-ছাগল ও ঈদের পোশাকসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী।

ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মানুষদের জন্য সড়কপথের নিরাপত্তা এবং পশুর হাট ও শপিং সেন্টারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে রয়েছে পুলিশের বাড়তি নিরাপত্তা। এছাড়া নদীপথের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে পুলিশের টহল অব্যাহত আছে।

শুক্রবার দুপুরে কয়েকটি পশুর হাট ও শপিং কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা গেছে, গরু-ছাগল নিয়ে হাটে ঢুকছে বিক্রেতারা। অপরদিকে ক্রেতারাও আসছেন হাটে। বিক্রেতাদের সাথে চলছে দর কষাকষি। ক্রেতারা পছন্দমতো গরু-ছাগল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন বাড়িতে।

এবার গরু-ছাগলের দাম গতবারের চেয়ে অনেক বেশি বলে জানালেন কোরবানির জন্য পশু কিনতে আসা মানুষরা। অপরদিকে পশু বিক্রেতারা বললেন, গত বছরের চেয়ে এই বছর পশু খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল কিছুর দাম বৃদ্ধি পেয়েছে তাই পশুর দাম কিছুটা বেশি।

পশু বিক্রির জন্য শুধু ক্রেতাদের কাছে খাজনা আদায়ের নিয়ম থাকলেও অবৈধভাবে বিক্রেতাদের কাছ থেকেও নেয়া হচ্ছে খাজনা। অনেকেই এলাকায় ভালো দাম পেলে বিক্রি করছেন পশু।

gaibanda

অপরদিকে শপিং সেন্টারগুলোতে সকাল থেকেই ভিড় বাড়ছে মানুষজনের। শিশু, পুরুষ-মহিলা ও যুবক-যুবতিরা পছন্দমতো কিনছে পোশাক, কসমেটিকস সামগ্রী, জুতাসহ প্রয়োজনীয় ঈদ উপকরণ।

বিক্রেতারা বলছেন, এবার ব্যবসা বেশি একটা ভালো না। গত ঈদের চেয়ে এবার ঈদে কেনাকাটা করতে আসা মানুষদের সংখ্যা খুবই কম। নতুন ডিজাইনের অনেক পোশাক নিয়ে এলেও সেসব অবিক্রিত থাকবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। এরপরই কাঁচাবাজার, সেমাই চিনিসহ অন্যান্য ঈদ বাজারের দোকানগুলোতে ভিড় বাড়ছে মানুষদের।

সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের পশ্চিম রাধাকৃষ্ণপুর গ্রামের শরিফুল ইসলাম বলেন, কোরবানির হাটে আজ গরু নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবছিলাম। কিন্তু এরই মধ্যে শুনলাম হাটে গরুর দাম কম। তাই পাশের গ্রামের দুই লোকের কাছে দুইটি গরু বিক্রি করেছি। গরু হাটে নিয়ে গেলে বেশি খরচ হতো, খাজনা দেয়া লাগতো, আবার দামও কম পাওয়া যেত। তাই গরু হাটে না নিয়ে গিয়ে এলাকাতেই বিক্রি করে লাভ বেশি হয়েছে।

শহরের মুন্সিপাড়া এলাকার জাভেদ হোসেন বলেন, কয়েকদিন থেকে ব্যস্ততার কারণে হাটে গরু কিনতে যেতে পারিনি। তাই আজ ভোর থাকতেই গরুর হাটে গিয়ে গরু কিনে এনেছি। তবে হাটে এবার গরুর দাম বেশি।

সদর উপজেলার সাহাপাড়া ইউনিয়নের তুলসীঘাট গ্রামের মোজ্জামেল হক বলেন, পলাশবাড়ী উপজেলার বেতকাপা ইউনিয়নের মাঠেরবাজার হাট থেকে গরু কিনেছি। গতবারের চেয়ে এবার গরুর দাম অনেক বেশি।

জেলা শহরের সালিমার সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী হাসান ইকবাল রিপন বলেন, অন্যান্য ঈদের চেয়ে এবার ঈদে বিক্রি খুব কম। অনেক নতুন ডিজাইনের পোশাক নিয়ে এলেও ক্রেতার অভাবে বিক্রি হচ্ছে না।

শহরের সুখনগর এলাকার বাসিন্দা সাখাওয়াত হোসেন বলেন, কোরবানির জন্য গরু কিনেছি। এছাড়া পরিবারের সকলের জন্য ঈদের পোশাকসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ কেনা শেষ। এবার সেমাই, চিনিসহ খাদ্যউপকরণ কিনব।

গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ মুঠোফানে বলেন, ঈদে মানুষের নিরাপত্তায় ৫০০ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এছাড়া অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আলাদাভাবে নিরাপত্তায় কাজ করছেন। গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী সড়কের নিরাপত্তায় রাতে তিনটি পেট্রোল টিম কাজ করছে।

রওশন আলম পাপুল/এএম/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।