কমেছে পাটুরিয়া ঘাটে যানবাহনের চাপ
শুক্রবার বিকেল থেকে যানবাহনের চাপ কমতে শুরু করেছে পাটুরিয়া ঘাটে। ধীরে ধীরে যানজট পরিস্থিতিও স্বাভাবিক হয়ে আসছে। তবে সন্ধ্যা ৬টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ঘাট এলাকায় প্রায় ৩ শতাধিক যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে।
যানবাহনের বাড়তি চাপের কারণে শুক্রবার সকাল থেকেই পাটুরিয়া ঘাটে যানজটের সৃষ্টি হয়। তবে ছোট ও বড় গাড়ির জন্য আলাদা সড়ক ব্যবহার করায় যানবাহনগুলো সুশৃঙ্খলভাবেই ফেরিতে উঠতে পারছে। ঘাটের ব্যবস্থাপনা নিয়ে যাত্রীদের তেমন কোনো অভিযোগ ছিল না।
ঘাটের চেয়ে যাত্রীদের সময় বেশি লেগেছে সড়ক-মহাসড়কে। কুষ্টিয়াগামী উপমা সিদ্দিকী সীমা বলেন, গাবতলী থেকে ভোর ৪টায় তিনি প্রাইভেটকারে চড়ে ঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা হন। প্রায় ৮ ঘণ্টা পর তিনি ঘাটে পৌঁছেছেন। তবে যানবাহনগুলো সারিবদ্ধভাবে ছিল। কোনো বিশৃঙ্খলা ছিল না বলে জানান তিনি।
আরেক যাত্রী শামীম মিয়া জানান, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে প্রচুর গাড়ি। এ কারণে নবীনগরের পর থেকেই ধীরগতি ছিল। অনেকস্থানেই হালকা যানজটেও আটকে থাকতে হয়েছে। তারপরও প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ করতে যাচ্ছেন বলে এতটুকু কষ্ট কষ্টই মনে করছেন না তিনি।
মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হোসেন জানান, যানবাহন সুশৃঙ্খলভাবে পারাপারের স্বার্থে ছোট গাড়িগুলোকে ৭ কিলোমিটার দূরে টেপড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে ৫ নম্বর ঘাট দিয়ে ঢুকানো হয়েছে। ৫ নম্বর ঘাটটি শুধুমাত্র ছোট গাড়ির জন্যই ব্যবহার করা হয়েছে।
এছাড়া প্রধান সড়কে যাত্রীবাহী বাসগুলোকে এক লাইনে দাঁড় করে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছিল। লঞ্চ পারাপারের যাত্রী বোঝাই যানগুলোও অনায়াসে চলাচল করতে পেরেছে। এসব পরিকল্পনার ফলে ঘাটে যানবাহনের চাপ থাকলেও, যানজট ছিল না। মানুষ স্বস্তি নিয়েই বাড়ি ফিরছেন বলেও দাবি তার।
বিআইডব্লিউটিসির সহকারী জেনারেল ম্যানেজার জিল্লুর রহমান বলেন, বর্ষার শুরু থেকেই নদীতে প্রচণ্ড স্রোতের কারণে ফেরি পারাপার ব্যাহত হচ্ছিল। আগে যেখানে নদী পার হতে একেকটি ফেরির সময় লাগতো ৩৫ মিনিট। সেখানে বর্তমান সময় লাগছে প্রায় এক ঘণ্টা। ফলে ট্রিপ সংখ্যা কমে গেছে। এর সাথে বাড়তি যানবাহনের চাপ বাড়ায় অপেক্ষামান যানবাহনের সারি দীর্ঘ হয়েছে। তবে নদীতে স্রোত না থাকলে যাত্রী ও যানবাহনগুলো আরও কম সময়ে ঘাট পার হতে পারত বলেও জানান তিনি।
বি.এম খোরশেদ/এএম/পিআর