বাড়ি পৌঁছতে না পেরে ঘাটেই ঈদ করলেন তারা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মুন্সীগঞ্জ
প্রকাশিত: ১০:১৯ এএম, ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৭

ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা হলো না দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার প্রায় সহস্রাধিক যাত্রীদের। রাজধানী ছেড়ে বাড়ির পথে রওনা দিলেও স্থল ও নৌপথের প্রতিকূল অবস্থার কারণে গন্তব্যে পৌঁছতে না পারায় এসব যাত্রীদের ঈদ কাটছে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটের লৌহজং ঘাটে।

শনিবার সকালে সারাদেশের মানুষ যখন পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদের নামাজ শেষে উৎসাহ উদ্দীপনায় কুশল বিনিময় করছেন। তখন শিমুলিয়া প্রান্তে অপেক্ষায়মান সহস্রাধিক যাত্রীসহ ড্রাইভার, হেলপাররা স্থানীয় মসজিদ বা ঈদগাহে জামাতে শরিক হয়ে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করেছেন।

ঈদের ছুটির কারণে ঘাটে থাকা খাবারের দোকানও বন্ধ। এ অবস্থায় ঈদের দিন সকাল থেকেই দুর্বিসহ ভোগান্তিতে পড়েছেন এসব যাত্রীরা।

আটকে পড়া যাত্রীদের মতোই ঈদ করতে পারেননি শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি ঘাটের দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও। চলমান ফেরিগুলোতে ঈদ উদযাপনের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

MUNSHIGANJ

বিআইডব্লিউটিসির উপ-মহাব্যবস্থাপক খালেদ নেওয়াজ বলেন, ডিউটি থাকার কারণে ঘাটের অনেক কর্মকর্তারই স্বজনদের নিয়ে ঈদ করতে পারেনি। আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরসহ অপেক্ষায়মান যাত্রীসাধারণ সবাই মিলে বিআইডব্লিউটিসির অভ্যন্তরের মসজিদ চত্বরে ঈদের নামাজ আদায় করেছি।

এছাড়া প্রতিটি ফেরিতে বিআইডব্লিউটিসির নিজস্ব অর্থায়নে রান্নার ব্যবস্থা হচ্ছে, যাতে আটকে পড়া যাত্রীদের আপ্যায়ন করা যায়।

ফেরি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জানা যায়, নাব্যতা সঙ্কট এবং পদ্মার তীব্র স্রোতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ড্রাম, কে টাইপ ফেরিসহ ১৫টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার হচ্ছে। এর মধ্যে বন্ধ রয়েছে ৪টি রো রো ফেরি।

বিআইডব্লিউটিসির শিমুলিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক গিয়াস উদ্দিন পাটোয়ারি জানান, ঈদের দিন সকালে ঘাট এলাকায় পাঁচ শতাধিক গাড়ি থাকলেও এখন ট্রাক ও ছোট-বড় যাত্রীবাহী যানবাহনসহ আড়াইশত বা তিনশ গাড়ি রয়েছে।

যার মধ্যে ট্রাকের সংখ্যা বেশি। গতকাল শুক্রবার রাত থেকে নাব্যতা সঙ্কটের কারণে রো রো ফেরিগুলো যানবাহন নিয়ে এই নৌপথ দিয়ে চলাচলে বাধাগ্রস্ত হলে তা বন্ধ করে রাখা হয়। বর্তমানে ১৫টি ফেরি দিয়ে যানবাহনসহ যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

মাওয়া-কাওরাকান্দি ট্রাফিক ইনেসপেক্টর মো. সিদ্দিক জানান, পদ্মার পানি হটাৎ কমে যাওয়ায় ফেরি চলাচলে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এমতাবস্থায় চলমান ফেরিগুলো দিয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে যানবাহন পারাপার না করতে পারায় ঘাট এলাকা গতকাল থেকেই যানবাহনের চাপ ছিল। ইতোমধ্যে ঢাকা থেকে আসা অনেক গাড়ি গন্তব্যে পৌঁছতে না পেরে ঢাকায় ফিরে গেছে।

ভবতোষ চৌধুরী নুপুর/এএম/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।