রাঙামাটিতে কল্পনা অপহরণের ১৯তম বর্ষপূর্তি পালিত


প্রকাশিত: ০৮:২৭ এএম, ১২ জুন ২০১৫
কল্পনা চাকমা অপহরণের ১৯তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রাঙামাটিতে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

আজ ১২ জুন শুক্রবার হিল উইমেন্স ফেডারেশনের তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক কল্পনা চাকমা অপহরণের ১৯ বছর পূর্তি হচ্ছে। এ উপলক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম মহিলা সমিতির উদ্যোগে সকাল ১০টায় রাঙামাটি জেলা প্রশাসন কার্যালয় সামনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি জড়িতা চাকমা।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা কল্পনা চাকমা অপহরণ ঘটনার প্রতিবাদ ও বিচার দাবি করে বলেছেন, কল্পনা চাকমা অপহরণের দীর্ঘ ঊনিশ বছর পার হলেও রাষ্ট্র কল্পনা চাকমার হদিস দিতে পারেনি। এতে রাষ্ট্র চরমভাবে ব্যর্থ। কল্পনা চাকমা কোথায় আমরা রাষ্ট্রের কাছে জবাব চাই। তিনি মরে গেছেন নাকি জীবিত আছেন রাষ্ট্রকে তার সঠিক জবাব দিতে হবে।

এসময় বক্তব্য রাখেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক প্রণতি বিকাশ চাকমা, সাংগঠনিক সম্পাদক শক্তিপদ ত্রিপুরা, শরৎজ্যোতি চাকমা, মহিলা সমিতির সহ-সভাপতি ওয়াইচিং প্রু মারমাসহ অন্যরা। সমাবেশ পরিচালনা করেন মহিলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুপ্রভা চাকমা। সমাবেশের আগে শহরের রাজবাড়ী এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করা হয়।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ১২ জুন রাতে হিল উইমেন্স ফেডারেশনের তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক কল্পনা চাকমাকে বাঘাইছড়ির নিউ লাল্যাঘোনা নামক গ্রামে তার নিজ বাড়ি থেকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা। এ অপহরণের জন্য দায়ী করা হয়ে আসছে সেনাবাহিনীর তৎকালীন নিউ লাল্যাঘোনা ক্যাম্প কমান্ডার লেফটেন্যান্ট ফেরদৌসকে।

কল্পনার পরিবার অভিযোগ করেন, ওই রাতে রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার নিউ লাল্যাঘোনা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে ঘুমন্ত কল্পনা চাকমাকে উঠিয়ে মা ও দুই ভাইয়ের সামনে থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় লেফটেন্যান্ট ফেরদৌস। সেই থেকে কল্পনার আর কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। কল্পনা কোথায়, কী ঘটেছে তার ভাগ্যে আজও তার কিছুই জানা যায়নি।

ওই ঘটনায় হওয়া মামলার পর ২০১০ সালের ২১ মে বাঘাইছড়ি থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রথম চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরে মামলার বাদী কালিন্দী কুমার চাকমা এ প্রতিবেদনের ওপর নারাজী দেয়ায় আদালত একই বছর ২ সেপ্টেম্বর মামলাটি তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন। সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা ২ বছর তদন্ত শেষে ২০১২ সালর ২৭ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরপর ২০১৩ সালের ১৬ জানুয়ারি রাঙামাটির চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাঙামাটি পুলিশ সুপারকে পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেন। ২০১৪ সালের ২০ জুলাই তদন্ত কর্মকর্তা রাঙামাটির তৎকালীন পুলিশ সুপার আমেনা বেগম অগ্রগতির প্রতিবেদন দাখিল করেন। কিন্তু ওই সব প্রতিবেদনে কল্পনা চাকমার কোনো হদিস পাওয়া যায় নি।

সমাবেশে কল্পনা অপহরণের জন্য দায়ী করে বক্তারা বলেছেন, আমরা লেফটেন্যান্ট ফেরদৌসের বিচার চাই। কিন্তু সরকার বরাবরই দোষীদের আড়াল করে যাচ্ছে। তদন্তের নামে নানা টালবাহানা চলছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসহ অপহরণকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। অন্যথায় পাহাড়ে আগুন জ্বলবে।

সুশীল চাকমা/এসএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।