শেরপুরে ভোগাই নদীর বাঁধ ভেঙে ২০ গ্রাম প্লাবিত
কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার খালভাঙ্গা এলাকার ভোগাই নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ২০০ মিটার ভেঙে গেছে। এতে করে ২০ গ্রাম প্লাবিত হয়ে কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে রাস্তা-ঘাটসহ আমনের বীজতলা, নষ্ট হয়েছে গ্রীষ্মকালীন শাকসবজি, ভেসে গেছে প্রায় অর্ধশতাধিক পুকুরের মাছ।
খালভাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হাকিম বলেন, গত বছরও আমরা এই বাঁধ ভাঙার কারণে আমন আবাদ করতে পারি নাই। সরকার যেন এর দ্রুত ব্যাবস্থা নেয়। না হলে এই এলাকার কৃষকসহ সকল মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
গৃহবধূ আমেনা বেগম বলেন, কি বাঁন দেয়, একটা ঢল না আইতেই নদীর বাঁধ ভাইঙ্গা যায়। আমরা খুব আজাবে আছি।
নালিতাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফউজ্জামান জানান, খালভাঙ্গার এই জায়গাটা বিপদজনক। বালির বস্তা ফেলে বারবার ভাঙনের স্থান ভরাট করায় পাহাড়ী ঢলের তীব্র চাপের ফলে বাঁধ টেকসই হয় না। তাই উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের কাছে আবেদন ব্লকের মাধ্যমে দ্রুত বাঁধটি সংস্কার করার।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্থানীয় গেজ রিডার মোকলেসুর রহমান জানান ,গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণের ফলে মঙ্গলবার রাতে ভোগাই নদীর পানি বিপদসীমার ৫৮ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় উপজেলার খালভাঙ্গা এলাকায় ভোগাই নদীর ২০০মিটার বাঁধ ভেঙে যায়। তবে বুধবার দুপুরে নদীর পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
এদিকে, অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশি, সোমেশ্বরী, ঝিনাই ও কালাঘুষা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া উজান থেকে নেমে আসা পানিতে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পুরনো ভাঙনগুলো দিয়ে বন্যার পানি প্রবেশ করায় চরাঞ্চলের তিনটি ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী ১০টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
হাকিম বাবুল/এসএস/আরআইপি