দুর্নীতির মামলায় নড়াইল জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কারাগারে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ০৯:২৭ এএম, ০২ অক্টোবর ২০১৭

নড়াইল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন বিশ্বাসকে দুর্নীতির মামলায় কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন যশোরের একটি আদালত। গত ২৬ সেপ্টেম্বর দুর্নীতির মামলায় ৭ বছর সাজাপ্রাপ্ত এ জনপ্রতিনিধি সোমবার যশোরের স্পেশাল জেলা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিচারক নিতাই চন্দ্র সাহা তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। সাজাপ্রাপ্ত অন্য ছয় আসামি কারাগারে রয়েছেন।

আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সিরাজুল ইসলাম জানান, ২০০৪-০৫ অর্থবছরে আসামি সোহরাব হোসেন নড়াইল পৌরসভার মেয়র ছিলেন। ওই সময় রূপগঞ্জ পশুহাট ইজারার দরপত্র আহ্বান করা হয়। এইচএম সোহেল রানা পলাশ নামে এক ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৬৫ হাজার ৫৫৫ টাকায় ওই হাটের ইজারা পান এবং তিনি দরপত্রের নিয়ম অনুযায়ী বিডি হিসেবে ৩৩ হাজার টাকা জমা দেন। পরবর্তীতে তিনি দরপত্র মূল্য দিতে অপরাগতা প্রকাশ করে ইজারা থেকে অব্যাহতির আবেদন করেন।

ওই আবেদনে অপর আসামি তৎকালীন পৌর কমিশনার জাহাঙ্গীর বিশ্বাসসহ ৬ জন কমিশনার ও ভারপ্রাপ্ত সচিব সুপারিশ করেন এবং মেয়র হিসেবে সোহবার হোসেন তা মঞ্জুর করেন। এরপর ইজারাদাতাকে তার জমাকৃত টাকা ফেরত দেয়া হয়। একই সঙ্গে নতুন করে ইজারার আহ্বান না করে সকলে অবৈধভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে ওই হাট তিনবছর ধরে খাস দেখিয়ে ১ লাখ ৯৬ হাজার টাকা আদায় করেন এবং সমুদয় অর্থ আত্মসাৎ করেন।

১৪১২, ১৪১৩, ১৪১৪ বাংলা সনের ওই ইজারা মূল্য ১ লাখ ৯৬ হাজার ৬৬৫ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় ২০০৮ সালের ৭ আগস্ট নড়াইল থানায় মামলা হয়। দুদক যশোরের সহকারী পরিচালক ওয়াজেদ আলী গাজী বাদী হয়ে ৭জনকে আসামি করে এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় দণ্ডবিধি ৪০৯/১০৯ ও ১৯৪৭ সালের ২ নম্বর দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ ধারায় আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত ৪০৯/১০৯ ধারায় প্রত্যেক আসামিকে তিন বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও ১৯৪৭ সালের ২ নম্বর দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ ধারায় প্রত্যেক আসামিকে ৪ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তাদেরকে ১ লাখ ৯৬ হাজার ৬৬৫ টাকা জরিমানা করা হয়। অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয় প্রত্যেক আসামিকে।

দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন- নড়াইল পৌরসভার বর্তমান মেয়র জাহাঙ্গীর বিশ্বাস, তৎকালীন কমিশনার শরফুল আলম লিটু, মুশফিকুর রহমান, আহম্মদ আলী খান, রফিকুল ইসলাম ও তেলায়েত হোসেন। বিচার চলার সময় ভারপ্রাপ্ত সচিব মতিয়ার মারা গেলে রায়ে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়। আর সোহরাব হোসেন বাদে অন্য ছয়জন রায় ঘোষণার দিন ২৬ সেপ্টেম্বর আদালতে উপস্থিত থাকায় ওই দিনই কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

মিলন রহমান/আরএআর/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।