একই সঙ্গে ঢাবি ও জাবি শিক্ষার্থী সিয়াম!
একই সময়ে দেশের দুই শীর্ষ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) অধ্যয়নের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর দুই ক্যাম্পাসেই ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর নাম নাজমুল হাসান সিয়াম। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের (১০৩ ব্যাচ) শিক্ষার্থী হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছেন। সেখানে তার ক্লাস রোল ৩১ এবং তিনি কবি জসিমউদ্দীন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবেও নিবন্ধিত।
এ ছাড়া ঢাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ফলাফলে ‘নাজমুল হাসান’ নামে এক শিক্ষার্থীর রোল নম্বর ২৪৩৬১৭ পাওয়া গেছে। ওই ফলাফলে তার সিজিপিএ ২.৯৭ উল্লেখ রয়েছে এবং তাকে কবি জসিমউদ্দীন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে দেখানো হয়েছে।
অন্যদিকে, একই ব্যক্তি জাবির সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের (৫২ ব্যাচ) শিক্ষার্থী বলেও জানা গেছে। বিভাগীয় সূত্র জানায়, সেখানে তার ক্লাস রোল ১১৮০ এবং তিনি কাজী নজরুল ইসলাম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে অবস্থান করছেন। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে তার সিজিপিএ ৩.২৯ দেখানো হয়েছে।
আরও পড়ুন
ড. ইউনূসকে নিজের লেখা বই উপহার দিলেন ছাত্রদল নেতা আবিদুল
ঢাবিতে ‘পরিহারযোগ্য মৃত্যু রোধে আন্তর্জাতিক সচেতনতা দিবস’ পালিত
‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’র নাম ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ করার প্রয়োজন ছিল না
দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে একসঙ্গে পড়াশোনার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান সিয়াম বলেন, আমি কলেজ এবং মাদরাসা থেকে আলাদাভাবে দু’বার এইচএসসি দিয়েছি। স্কুল থেকে ২০২২ সালে আর মাদরাসা থেকে ২০২৩ সালে। স্কুলের সার্টিফিকেট দিয়ে প্রথমবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলাম। আর পরের বছর মাদরাসার সার্টিফিকেট দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলাম।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নীতিমালা অনুযায়ী, একই সময়ে একাধিক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ডিগ্রি অর্জন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। নীতিমালায় বলা হয়েছে, একজন শিক্ষার্থী একসঙ্গে কেবল একটি বিশ্ববিদ্যালয় ও একটি ডিগ্রি প্রোগ্রামে অধ্যয়ন করতে পারবেন। তথ্য গোপন করে একাধিক প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর ভর্তি ও ছাত্রত্ব বাতিলসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।
এমন কাজ আইনত অবৈধ বলে প্রশ্ন করলে নাজমুল বলেন, আমি তো এখন আর ঢাবিতে পড়ছি না। আমি এখন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছি। নিয়মিত ক্লাস করছি, পরীক্ষা দিচ্ছি, হলে থাকছি। তবে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ক্যান্সেল করেননি বলে জানায় জাগো নিউজকে।
এ বিষয়ে আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জাগো নিউজকে নাজমুল হাসান সিয়াম বলেন, আমি বর্তমানে ঢাবিতে অধ্যয়ন করছেন না। জাবিতেই নিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষা ও হলজীবন চালিয়ে যাচ্ছি। তবে আমি এখনো ঢাবির ভর্তি বাতিল করেননি।
আরও পড়ুন
তথ্যকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে ১৭ বছর ‘তথ্য সন্ত্রাস’ চালানো হয়েছে
জাবিতে মানববন্ধনে জুলাই হামলায় মদদদাতা শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ
জাবি শিক্ষার্থীকে বাস থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ, ৬ বাস আটক
ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের পদত্যাগ
ঢাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. তৈয়্যেবুর রহমান বলেন, এমন ঘটনা প্রথম শুনলাম। এ ধরনের ঘটনা মোটেও স্বাভাবিক না। এমনকি তার ছাত্রত্ব বাতিল হতে পারে।
এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি বিষয়টা আপনার থেকে ইনফরমালি জানলাম। এখন দেখি কী করা যায়। তবে ভালো হয় আমাদের কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে। সেক্ষেত্রে আমাদের পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হয়।
এদিকে জাবির সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান মৃধা মোহাম্মদ শিবলী নোমান বলেন, ওই ছাত্রের দ্বৈত ছাত্রত্বের বিষয়টি গতমাসে জাবি সাংবাদিক সমিতির নির্বাচনকালে কিছু ফেসবুক পেজের ফটোকার্ডের মাধ্যমে প্রথম নজরে আসে।
যদি তিনি আসলেই ভিন্ন দুইটি সনদ ব্যবহার করে দুইটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন, তাহলে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষেই সাদা চোখে এটি বের করার সুযোগ থাকে না। সাধারণত একসঙ্গে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের সুযোগ দেওয়া হয় না বলেই ভর্তির সময় নির্দিষ্ট একটি সময়ের জন্য সনদপত্রগুলো জমা রাখা হয়। এ ক্ষেত্রে সনদপত্র আলাদা হওয়ায় অতিরিক্ত জটিলতা রয়েছে।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে আইন কী বলে বা কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সেই উত্তর দেওয়ার যথাযথ কর্তৃপক্ষ বিভাগ নয়। কারণ এ বিষয়গুলো রেজিস্ট্রার অফিসের শিক্ষা শাখার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। ভর্তির সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীদের তথ্য বিভাগে পাঠানো থেকে শুরু করে সনদপত্র জমা রাখা এবং প্রতি শিক্ষাবর্ষে তথ্য হালনাগাদ করার জন্য শিক্ষা শাখাই দায়িত্বপ্রাপ্ত। ফলে এ বিষয়ে জাবির সুস্পষ্ট বিধান জানার জন্য শিক্ষা শাখায় যোগাযোগ করা সমীচীন হবে।
এফএআর/এমএএইচ/