ইলিশ ধরা বন্ধে বাড়বে অন্যান্য মাছও

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পটুয়াখালী
প্রকাশিত: ০৩:১৮ এএম, ০৬ অক্টোবর ২০১৭

নদ নদীতে সব ধরনের মাছ ধরার উপর চলছে নিষেধাজ্ঞা। ১ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত অধিকাংশ ইলিশ মাছ ডিম ছাড়ে বলে ইলিশের এ প্রজনন সময়কে নিরাপদ করতে নদ নদীতে সকল ধরনের মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। ফলে ইলিশ উৎপাদনের পাশাপাশি অন্যান্য মাছের উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিগত বছরগুলোতে ১১ দিন এই নিষেধাজ্ঞা থাকলেও চলতি বছর তা বাড়িয়ে ২২ দিন করা হয়েছে। এর ফলে মাছের উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি জেলেদের আর্থ সামাজিক অবস্থারও যেমন পরিবর্তন হবে তেমনি দেশের অর্থনীতিতেও ইলিশ গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

পটুয়াখালী জেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য মতে, ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরে জেলায় ইলিশের উৎপাদন ছিল ২৮ হাজার মেট্রিক টন, ২০১৫-২০১৬ সালে ৩২ হাজার ৭৫০ মেট্রিক টন এবং চলতি বছরে এর পরিমাণ আরো বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬ হাজার মেট্রিক টনে।

তবে বাস্তবে এই জেলায় ইলিশের উৎপাদন আরো অনেক বেশি। গত বছর পটুয়াখালী জেলায় বিভিন্ন প্রজাতির মাছের মোট উৎপাদন ছিল ৮ লাখ ১৮ হাজার ১৮ মেট্রিক টন। ওই বছর জেলার চাহিদা মিটিয়েও ৩৪ হাজার ১০০ মেট্রিক টন মাছ উদ্বৃত্ত ছিল।

পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. আবুল হাছানাত জাগো নিউজকে বলেন, নদী ও সাগর মোহনা থেকে যেসব ইলিশ ধরা পড়ছে তার বড় একটি অংশ সরাসরি দেশের বিভিন্ন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে চলে যাচ্ছে। ফলে এসব মাছ জেলার হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে না।

Patuakhali

ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম এই ২২ দিন যদি মাছ ধরা পুরোপুরি বন্ধ রাখা যায় তবে শুধু ইলিশ নয়, অন্যান্য মাছের উৎপাদনও বিগত বছর গুলোর থেকে অনেকাংশে বাড়বে।

তবে পটুয়াখালীর কলাপাড়ার ধানখালী এলাকার কুদ্দুস শরীফ জাগো নিউজকে বলেন, ইলিশ মাছ ডিম ছাড়ার পর সরকার যদি অবৈধ বাঁধাজাল ও কারেন্ট জালের ব্যবহার বন্ধ করতে না পারে তাহলে এই ২২ দিনের অভিযান ব্যার্থ হবে। এ কারণে ওই সময়েও নদী ও সাগরে সরকারের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।

এদিকে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ড. মো. মাছুমুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ইলিশের প্রজনন মৌসুমকে নিরাপদ করতে জেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট সার্বক্ষণিক তৎপর। গত এক সপ্তাহে জেলায় প্রায় ২০ জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদানসহ প্রায় কোটি টাকার অবৈধ জাল উদ্ধার করা হয়েছে। আর জাটকা সংরক্ষণের এ অভিযান চলমান থাকবে।

মহিব্বুল্লাহ্ চৌধুরী/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।