আত্রাইয়ে গজমতখালী জলাশয় দখলের চেষ্টা
নওগাঁর আত্রাই উপজেলার হাটকালুপাড়া ইউনিয়নের গজমতখালী জলাশয়টি স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীর দখলে রয়েছে। দীর্ঘদিন জলাশয়টি প্রভাবশালীর দখলে থাকায় স্থানীয় মৎসজীবী এবং কৃষকরা নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। জলাশয়টি উন্মুক্ত করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগও দেয়া হয়েছে। গত ২ অক্টোবর এলাকাবাসীর পক্ষে ৩৫০ জন স্বাক্ষরিত এ অভিযোগ করেন স্থানীয় ইউপি মেম্বার গোলাম সারোয়ার।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হাটকালুপাড়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডে গজমতখালী জলাশয়টি ১নং খাস খতিয়ান ভুক্ত সম্পত্তি এবং জলাশয়টির শ্রেণি খাল। জলাশয়টির উপর স্থানীয় প্রায় দুই শতাধিক মৎসজীবী এবং দেড় শতাধিক কৃষক নির্ভরশীল। দীর্ঘদিন নীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি জলাশয়টি দখল করার চেষ্টা করে আসছেন। এতে মৎসজীবীরা সেখানে মাছ শিকার এবং কৃষকরা কৃষি কাজের জন্য জলাশয় থেকে জমিতে পানি সেচ দিতে পারছেন না।
মৎসজীবীরা জলাশয় থেকে মাছ শিকার করতে না পারায় অনেকটা কষ্টের মধ্যে পড়েছেন। সেই সঙ্গে কৃষকরা তাদের জমি থেকে উৎপাদিত ফসলে পানি সেচ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।
গজমতখালী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছেফাতুল্লাহ বলেন, আমরা কৃষকদের কখনই জলাশয় থেকে পানি উত্তলন কাজে বাধা দেয়নি। বরং তারাই জলাশয় থেকে অংশ দাবী করে বসে এবং দখল করার জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। জলাশয়ের অংশ না দেয়ায় গত এক সপ্তাহ আগে কাজল, ইয়াসিন, মাহাবুর ও কামালসহ কয়েকজন মৎস্যজীবীকে মারপিট করেছে। আমাদের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা অভিযোগও দিয়েছে।
গজমতখালী পাহাড়পুর গ্রামের ইয়াসিন আলী খানের ছেলে কালাম জানান, সরকার গজমতখালী জলাশয় সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে। কিন্তু মৎস্যজীবীরা উন্মুক্ত জলাশয়কে বিভিন্নভাবে কচুরীপানা দিয়ে সাধারণ জনগণের গোসল করা ও জলাশয় থেকে পানি সেচ দেয়ার কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে।
অভিযোগকারী স্থানীয় ইউপি মেম্বার গোলাম সারোয়ার বলেন, এখানে আমরা কেউ দখল করার জন্য আবেদন করিনি। বরং জলাশয়টি মুক্ত রাখার জন্যই আবেদন করা হয়েছে। যে কোন মুহুর্তে সেখানে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটতে পারে। বিষয়টি উপর মহলকে দেখার জন্য সুদৃষ্টি কামনা করছি।
আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোখলেছুর রহমান বলেন, তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। সার্বিক বিষয়টি দেখার জন্য উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুজ্জামান বলেন, জলাশয়টি মুক্ত আছে। সেখানে মৎস্যজীবীরা মাছ শিকার করে সারা বছরই জীবিকা নির্বাহ করেন। কৃষক ওই জলাশয় থেকে জমিতে সেচ কাজে পানি ব্যবহার করেন। যারা অভিযোগ করেছেন বরং তারাই উল্টো বাঁশের বেড়া (বানা) দিয়ে দখল করার চেষ্টা করছেন।
আব্বাস আলী/এনএফ/এমএস