উজানের ঢলে তিস্তার পানি বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার উপরে


প্রকাশিত: ০৬:০২ এএম, ১৯ জুন ২০১৫

উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে শুক্রবার সকাল থেকে বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ৫ দিনের মাথায় আবারও তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমা অতিক্রম করে। গত রোববার তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ২২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় তিস্তায় নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমায় ৫০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। রাত ৯টার পর থেকে তিস্তার নদীর পানির বৃদ্ধি পেতে থাকে। শুক্রবার সকাল ৬টায় ও ৯টায় তিস্তার পানি বিপদসীমার (বিপদসীমা ৫২ দশমিক ৪০মিটার) ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

আকস্মিক উজানের ঢলের কারণে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার উপর প্রবাহিত হওয়া চরাঞ্চলের ১০ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। চরাঞ্চলের অধিকাংশ বাড়ি সকালে কোমর থেকে হাঁটু পানিতে তলিয়ে পড়েছে।

এদিকে তিস্তায় পানি বৃদ্ধির কারণে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি স্লুইচ গেট খুলে রাখা হয়েছে বলে জানান তিস্তা ব্যারাজের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সুরুতুজ্জামান। এদিকে তিস্তাপাড়ের বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের সূত্র মতে পানি বৃদ্ধির কারণে নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার তিস্তাপারের নিম্নাঞ্চলের ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে রয়েছে।

পানি বৃদ্ধির ফলে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ি ও জলঢাকা উপজেলার, গোলমুণ্ডা, ডাউয়াবাড়ি, শৌলমারী ও কৈমারী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের গ্রাম ও নদীর চরগুলো প্লাবিত হয়েছে।

প্লাবিত গ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে ছোটখাতা, পশ্চিম বাইশপুকুর, পূর্ব বাইশপুকুর, কিসামত ছাতনাই, পূর্বছাতনাই ঝাড়শিঙ্গেরশ্বর, বাঘেরচর, টাবুর চর, ভেণ্ডাবাড়ী, ছাতুনামা, হলদিবাড়ী, একতারচর, ভাষানীর চর, কিসামতের চর, ছাতুনামা। এ চরাঞ্চলের ৪ হাজার পরিবারের ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

পূর্বছাতনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান জাগো নিউজকে জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৯টার পর থেকে তিস্তা নদীর পানি আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে শুরু করেছে। ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

খগাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম লিথন জাগো নিউজকে জানান, কিসামত ছাতনাই চরের প্রতিটি বাড়ি হাটু পানিতে তলিয়ে গেছে। ওই গ্রামের ২৫০টি পরিবারকে নিরাপদ স্থানে থাকার জন্য বলা হয়েছে। খালিশা চাপানি ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য তফেল উদ্দিন জানান রাতে ২শতাধিক পরিবাবের লোকজন গরু ছাগলসহ বাঁধে আশ্রয় গ্রহণ করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম জাগো নিউজকে জানান, উপজেলার ৭টি ইউপি চেয়ারম্যানদের চরাঞ্চলে বসবাসরতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ প্রদান করেন।

তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, তিস্তা নদীর পানি বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় বাড়তে শুরু করে শুক্রবার সকাল ৬টা ও ৯টায় ডালিয়া পয়েন্ট বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

জাহেদুল ইসলাম/এমজেড/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।