আওয়ামী লীগ নেতা হত্যা মামলায় প্রধান ৩ আসামি খালাস


প্রকাশিত: ০১:৫১ পিএম, ২১ জুন ২০১৫

১ যুগ পর বাগেরহাট জেলা শ্রমিক লীগের তৎকালীন সভাপতি ও মোড়েলগঞ্জ উপজেলার তেলিগাতি ই্উনিয়নের বার বার নির্বাচিত চেয়ারম্যান খান মো. সাদেকুল ইসলাম সাদু খা হত্যা মামলায় রায় প্রদান করা হয়েছে। ২০০৩ সালে সংঘঠিত বাগেরহাট জেলায় আলোচিত এ হত্যা মামলায় চার্জশিটভুক্ত ৩ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের বেকসুর খালাশ দিয়েছেন বাগেরহাট অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ এর বিচারক।

রোববার বিকেল ৩টায় জনাকীর্ণ আদালতে ৩ আসামির উপস্থিতিতেই এই রায় প্রদান করেন বিচারক আল আসাদ  মো. আছিফুজ্জামান। তবে রায়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন নিহতের পরিবার। তারা এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবনি বলে জানান নিহতের ভাই ও বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খান শফিকুল ইসলাম।

মাললার বিবরণে জানা যায়, ২০০৩ সালের ১৩ নভেম্বর  বিকেল ৪টার দিকে শ্রমিকলীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান খান সাদেকুল ইসলাম তার অপর সঙ্গীকে নিয়ে নিজস্ব প্রাইভেট রিকশাযোগে মোড়েলগঞ্জের তেলিগাতি থেকে বাগেরহাট শহরের বাড়ি ফিরছিলেন। এসময়ে ৩ আসামি একটি মোটরসাইকেলযোগে কচুয়া উপজেলার পিগুড়িয়া এলাকায় পৌঁছে  চেয়ারম্যান সাদুখাকে গুলি করে হত্যা করে পালিয়ে যান।

এ ঘটনায় ১৬ মার্চ নিহতের ছোট ভাই খান শফিকুল ইসলাম নান্টু  বাদী হয়ে মোড়েলগঞ্জ উপজেলার তেলিগাতি ইউনিয়নের আব্দুল কাদের চৌধুরীর ছেলে আলমগীর হোসেন চৌধুরী ও একই এলাকার মৃত মোক্তার আলীর ২ ছেলে  আক্রাম খান ও আশরাফ খানকে আসামি করে কচুয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। সে সময়ে জনপ্রিয় এ শ্রমিকলীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যানকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় বাগেরহাট জেলাব্যাপী ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা এ ঘটনায় বাগেরহাট শহরের বাসাবাটি এলাকায় খান সাদেকুল ইসলামের বাড়িতে এসে নিহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপনসহ আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার করা হবে বলে নিহতের বাড়ির সামনের রাস্তায় এক প্রতিবাদ সমাবেশে এ কথা বলেন।

বিএনপি জামায়াত জোট ক্ষমতায় থাকাকালীন আলোচিত এ হত্যা মামলা এক পর্যায়ে সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়। পরে ২০০৫ সালের ১০ মার্চ বাগেরহাট সিআইডির উপ-পরির্দশক মো. শওকত হোসেন বাদীর দায়ের করা মামলার ৩ আসামিকেই অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। দীর্ঘ ১ যুগ ধরে চলা এ মামলায় রোববার বিকেলে রায়  হবে এখবর শুনে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীসহ নিহতের স্বজনরা আদালতে ছুটে যান। তবে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তিন আসামিকেই খালাশ দেন।

এ ব্যাপারে কথা হয় বাদী পক্ষের আইনজীবী ও নিহতের ছোট ভাই মামলার বাদী অ্যাডভোকেট খান শফিকুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

বাদী পক্ষে মামলা পরিচালনাকারীদের মধ্যে ছিলেন রাষ্ট্রপক্ষের এপিপি লুৎফর রহমান। অপরদিকে আসামি পক্ষের মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মো. মাহফুজার রহমান লাহু।

শওকত আলী বাবু/এমজেড/আরআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।