ঝিনাইগাতী উপজেলা চেয়ারম্যান বরখাস্ত
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলাম বাদশাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। রোববার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণায়ের সিনিয়র সহকারী সচিব লুৎফুন নাহার স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ দেয়া হয়।
অপরদিকে, একই আদেশে ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. আমিরুল ইসলাম মক্কুকে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতে আমিরুল ইসলামকে আর্থিক ক্ষমতাও দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১১-১২ অর্থ-বছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ বিভাগের অধীনে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কর্মসূচির (টিআর) আওতায় ঝিনাইগাতী উপজেলায় ১০০ দশমিক ২০৯ মে. টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান থাকাকালে আমিনুল ইসলাম বাদশার যোগসাজসে ৭ ইউপি চেয়ারম্যানের অনুকূলে বরাদ্দকৃত গমের মধ্যে ৬৭ দশমিক ২০৯ মে. টন গমের কোনো কাজ না করেই ভুয়া কাজ দেখিয়ে সরকারি খাদ্যগুদাম হতে গম উত্তোলন করে তা কালোবাজারে বিক্রি করা হয়।
বিক্রয়লব্ধ সরকারি মূল্যের ১৬ লাখ ৮১ হাজার ৩১ টাকা ৫০ পয়সা আত্মসাৎ করা হয়। কাজ না করে ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে টিআর প্রকল্পের গম আত্মসাতের অভিযোগে ২০১৩ সালের ৩ নভেম্বর দুদকের টাঙ্গাইল সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম বাদি হয়ে ঝিনাইগাতী থানায় মামলা দায়ের করেন।
পরে সেই মামলায় তাকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল হলে আত্মসমর্পণ করলে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। কিন্তু কারাগারে থাকা অবস্থায়ই ২০১৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইগাতী উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আমিনুল ইসলাম বাদশা দ্বিতীয়বারের মতো উপজেলা চেয়ারম্যান পুনঃনির্বাচিত হন। পরে তিনি জামিনে মুক্তি লাভ করে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। মামলাটি বর্তমানে শেরপুর জেলা জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এ অবস্থায় রোববার তাকে বরখাস্ত করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব লুৎফুন নাহার স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে (স্মারক নং-৪৬.০৪৫.০২৭.০৮.৪৩.০৪৩.২০১৫-৭৬৭, তাং-২১/০৬/২০১৫) ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের আমিনুল ইসলাম বাদশাকে বরখাস্তের আদেশ জারি করা হয়।
আরেক আদেশে (স্মারক নং-৪৬.০৪৫.০২৭.০৮.৪৩.০৪৩.২০১৫-৭৬৮, তাং-২১/০৬/২০১৫) ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে উপজেলা পরিষদ (কার্যক্রম বাস্তবায়ন) বিধিমালা, ২০১০ এর ধারা ১৫ এর উপ-ধারা (২) অনুযায়ী ভাইস চেয়ারম্যান (প্যানেল চেয়ারম্যান-১) জানার মো. আমিরুল ইসলাম মক্কুকে ‘ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
ভাইস চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম মক্কুকে ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের অনুপস্থিততে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অপর এক আদেশে (স্মারক নং-৪৬.০৪৫.০২৭.০৮.৪৩.০৪৩.২০১৫-৭৬৯, তাং-২১/০৬/২০১৫) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম মক্কুকে আর্থিক ক্ষমতা দেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে শেরপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাকীর হোসেন বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা সংক্রান্ত চিঠি পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে আমিনুল ইসলাম বাদশা জানান, ক`দিন ধরে এমন কথা শুনছি। তবে আমি এখনও কোনো কাগজ হাতে পাইনি।
ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম মক্কু মুঠোফোনে জানান, আমি ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরছি। উপজেলা চেয়ারম্যানের আমিনুল ইসলাম বাদশাকে বরখাস্ত করে আমাকে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। আর সেই চিঠি আমি হাতে পেয়েছি।
হাকিম বাবুল/এআরএ/আরএস/আরআইপি