বাগেরহাটে হত্যা মামলায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি বাগেরহাট
প্রকাশিত: ০১:০৭ পিএম, ২৬ অক্টোবর ২০১৭
প্রতীকী ছবি

বাগেরহাটে আব্দুল খালেক শেখ (৫৯) নামে এক শারীরিক প্রতিবন্ধী বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে জাহিদ শেখ (৩৮) নামে এক যুবকের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন এ রায় দেন।

নিহত আব্দুল খালেক শেখ রামপাল উপজেলার মল্লিকেরবেড় ইউনিয়নের দক্ষিণ সন্নাসী গ্রামের প্রয়াত আহম্মদ আলীর ছেলে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জাহিদ শেখ (৩৮) বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার মল্লিকেরবেড় ইউনিয়নের দক্ষিণ সন্নাসী গ্রামের মোকাম্মেল শেখের ছেলে। তিনি নিহত আব্দুল খালেক শেখের সম্পর্কে সৎ নাতনি।

মামলার নথির বরাত দিয়ে বাগেরহাট জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট সীতা রাণী দেবনাথ বলেন, রামপাল উপজেলার দক্ষিণ সন্নাসী গ্রামের নিহত আব্দুল খালেক শেখ শারীরিক প্রতিবন্ধী ছিলেন। প্রতিবন্ধী হওয়ায় সরকারিভাবে তিনি প্রতিমাসে ভাতা পেতেন। এই ভাতার টাকা তার সৎ নাতনি জাহিদ শেখকে প্রায়ই দিতে হতো। ভাতার টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলেই প্রায়ই জাহিদ তাকে মারধর করত এবং প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিত।

ভাতার টাকা না দেয়ায় পূর্ববিরোধের জেরে জাহিদ ক্ষুব্দ হয়ে ২০১৪ সালে ৩১ মে সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে আব্দুল খালেককে হত্যা করে পালিয়ে যায়। এই ঘটনার পরদিন নিহতের ছেলে মো. আলী আকবর শেখ বাদী হয়ে জাহিদ শেখকে আসামি করে রামপাল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এর তিনদিন পর পুলিশ ঢাকা থেকে জাহিদকে গ্রেফতার করে। পরে জাহিদ তার দাদাকে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। রামপাল থানা পুলিশের তৎকালীন এসআই মো. ইমারত আলী ওই বছরের ২০ আগস্ট জাহিদ শেখের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। আদালতের বিচারক ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে এ রায় দেন।

শওকত বাবু/আরএআর/জেআইএম