যানজটে নাকাল ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসী


প্রকাশিত: ০৮:১৪ এএম, ৩০ জুন ২০১৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও অটোরিক্শার কারণে সৃষ্ট যানজটে নাকাল হয়ে পড়েছেন জেলাবাসী। অতিরিক্ত ইজিবাইক ও অটোরিক্শার কারণে প্রতিদিনি সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। এতে করে চরম দুর্ভোগ পোহাগে হচ্ছে জেলাবাসী ও দূর-দূরান্ত থেকে শহরে আসা সাধারণ মানুষকে।

এদিকে, যানজট নিয়ন্ত্রণে শহরের বিভিন্ন সড়কে ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে দেওয়া ডিভাইডার এখন মরার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কের বেশ কিছু অংশ জুড়ে ডিভাইডার ভেঙে ও কাত হয়ে এলোমেলোভাবে সড়কের মাঝখানে পড়ে রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন পথচারী জাগো নিউজকে জানান, এমনিতেই শহরের রাস্তাগুলো তুলনামূলকভাবে সরু আর এই সরু রাস্তায় কয়েকশ ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও অটোরিক্শা আটকা পড়ে প্রতিনিয়ত যানজট লেগেই থাকে। যানজট নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

জানা যায়, জেলা শহরের কুমারশীল মোড় থেকে কাউতলি বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত জেলা ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে যানজট নিয়ন্ত্রণে সড়কের দু’পাশে ডিভাইডার দেওয়া হয়। কিন্তু অতিরিক্তি যানবাহনের চাপ আর প্রয়োজনীয় রক্ষাণাবেক্ষণের অভাবে বেশ কয়েকটি স্থানে ডিভাইডার ভেঙে এলামেলোভাবে সড়কের মাঝখানে কাত হয়ে পড়ে আছে। তবে এগুলো সংস্কারের ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ উদাসীন।

এদিকে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে সাধারণ মানুষ শহরে আসছেন। এতে করে শহরে মানুষের সাথে সাথে যানবাহনেরও চাপ বাড়ছে। এর ফলে প্রতিদিন দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলা শহরের কাউতলি, টিএ রোড, কুমারশীল মোড়, কোর্ট রোড, সদর হাসপাতাল রোডসহ বেশ কয়েকটি সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

এছাড়া কানো প্রকার লাইসেন্স বা অনুমোদনের ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিন সড়কে নামছে নতুন নতুন সব ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত অটোরিক্শা। এর ফলে সড়কের উপর বাড়তি যানবাহনের চাপ বাড়ছেই। তবে এখনই এসব অবৈধ ইজিবাইক ও অটোরিক্শা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ভবিষ্যতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া যানজটের শহরে পরিণত হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরে কি পরিমাণ ব্যটারিচালিত ইজিবাইক ও অটোরিক্শা চলাচল করে তার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই জেলা ট্রাফিক পুলিশের কাছে। তবে আনুমানিক পাঁচ হাজারেরও বেশি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও অটোরিক্শা চলাচল করে বলে জানা গেছে।

জেলা ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক মো. বায়েজিদ জাগো নিউজকে জানান, যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করে যাচ্ছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের যানজট আগের চেয়ে অনেকাংশে কমে গেছে। এছাড়া শহরের গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি সড়কে ইজিবাইক ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।

ইজিবাইক ও অটোরিক্শার অনুমোদনের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ট্রাফিক পুলিশ ইজিবাইক বা রিক্শার অনুমোদন দেয় না। এগুলো স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে বর্তমানে সারা বাংলাদেশে ইজিবাইক ও রিক্শার অনুমোদন দেওয়া বন্ধ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

আজিজুল আলম সঞ্চয়/এসএস/এমআরআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।