বারান্দায় চলছে নিউমোনিয়ার চিকিৎসা
কোথাও মেঝেতে, কোথাওবা বারান্দায়, আবার কোথাও মা-বাবার কোলে চড়ে নিতে হচ্ছে চিকিৎসা। কারণ বেডের সংখ্যা মাত্র ৮টি, বিপরীতে গড়ে ৭০-৮০ জন। প্রতিদিন ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের জরুরি ও বহির্বিভাগে এভাবেই চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে ৩ শতাধীক নিউমোনিয়া ও জ্বরে আক্রান্ত শিশুকে।
শীত এলেই শিশুরা নিউমোনিয়াসহ ভাইরাসজনিত রোগে আক্রান্ত হয়। তবে এবার খোদ ডাক্তাররাই নিউমোনিয়ার ব্যাপক প্রকোপ দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আর হাসপাতালের এমন চিকিৎসার জন্য দায়ী করছেন স্বল্প জনবল ও সীমিত আসনকে। জেলার ৬ উপজেলা থেকেই ভালো সেবা পেতে অবিভাবকরা তাদের শিশুকে নিয়ে ছুটে আসছেন সদর হাসপাতলে।
সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মৌসুম পরিবর্তনের কারণে আবহাওয়ায় বিরাজ করছে কখনও গরম আবার কখনও ঠান্ডা। এ অবস্থায় ঝিনাইদহে শত শত শিশুকে চিকিৎসা সেবা দিতে হচ্ছে। বহির্বিভাগ ও অন্তর্বিভাগ মিলে প্রতিদিন প্রায় ২৫০-৩০০ বাচ্চাকে ঠান্ডা সমস্যার চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। কিন্তু শিশু ওয়ার্ডে রয়েছেন মাত্র একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। তাই আরও একজন মেডিকেল অফিসার দেয়ার চিন্তা করছে কর্তৃপক্ষ।

হরিণাকুন্ড উপজেলা থেকে আগত কালাম মিয়া বলেন, আমার বাচ্চা আজ ৭ দিন ধরে ভর্তি। শিশুদের রোগ নিরাময়ে প্রয়োজনীয় রেডিয়েন্ট ওয়ারমার মেশিন, ফটোথেরাপি মেশিনও রয়েছে নষ্ট। নেই পর্যাপ্ত অক্সিজেনের ব্যবস্থাও।
সদর উপজেলার চুটলিয়া গ্রামের মিনা খাতুন জানান, নিউমোনিয়ার এই প্রকোপে অবিভাবকরাও শঙ্কিত। শিশুদের পাশাপাশি গাদাগাদি করে তাদেরকেও থাকতে হচ্ছে হাসপাতালের কোথাও না কোথাও।
সদর হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, বারান্দায় ধুলাবালি ময়লা আবর্জনায় সুস্থতার বিপরীতে আরও নানা রোগ আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা।
ঝিনাইদহ হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ও ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. ইমদাদুল হক জানান, ভাইরাসজনিত কারণে নিউমোনিয়ার প্রকোপ বেড়েছে।
আহমেদ নাসিম আনসারী/এফএ/আইআই