ব্যবসায়ীর গাড়ি কেনার টাকা কেড়ে নিয়ে ৪ পুলিশ ক্লোজড

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি ঝিনাইদহ
প্রকাশিত: ০৩:৫৭ পিএম, ২৮ নভেম্বর ২০১৭ | আপডেট: ০৮:৪৬ এএম, ০৫ ডিসেম্বর ২০১৭

ঝিনাইদহের মহেশপুরের এক এসআইসহ ৪ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীর গাড়ির কেনার ১৬ লাখ টাকা কেড়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৪ পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করা হয়েছে।

চার পুলিশ সদস্য হলেন- মহেশপুর উপজেলার দত্তনগর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মাহফজুল হক, এএসআই নরুনবী, কনস্টেবল হোসেন আলী ও সোহল রানা।

গত ২৬ নভেম্বর এ ঘটনা ঘটে। গতকাল ওই চার পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করা হয়। ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চলছে। শৈলকুপা সার্কেলের সিনিয়র এএসপি তারেক আল মেহেদী হাসানকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তাকে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২৬ নভেম্বর রোববার সকালে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ব্যবসায়ী ওয়াজির ১৬ লাখ টাকা নিয়ে গাড়ি কেনার জন্য জীবননগর আসছিলেন। পথে সন্তোষপুর নামক স্থানে পৌঁছালে দত্তনগর পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই নুরুনবী, কনস্টেবল সোহেল রানা ও হোসেন আলী মোটরসাইকেল চেকিং করার কথা বলে তাকে নামিয়ে ফাঁড়িতে নিয়ে যায়।

পরে আটকে রেখে তার কাছে থাকা ১৬ লাখ টাকা কেড়ে নেয়া হয়। ওয়াজির আলী অনুনয়-বিনয় করে ১ লাখ টাকা ফেরত নেন। ওই পুলিশ ক্যাম্প থেকে বের হয়ে বাকি ১৫ লাখ টাকা ফিরে পাওয়ার জন্য চেষ্টা করতে থাকে। এতে করে খবর ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় দুইজন সাংবাদিক ঘটনাটি মহেশপুর থানাকে অবহিত করে। এরপর তোলপাড় শুরু হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মহেশপুর থানা পুলিশের ওসি আহমেদ কবীর বলেন, ২৬ নভেম্বর সকাল ৯টা থেকে ১১টার মধ্যে দত্তনগর ফাঁড়ির আইসি এসআই মাহফুজুল হক, এএসআই নরুনবী, কনস্টেবল হোসেন আলী ও সোহেল রানা চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা তাহাজ্জেল আলীর ছেলে ওয়াজির আলীর কাছ থেকে ১৬ লাখ টাকা কেড়ে নেয় মর্মে অভিযোগ করা হয়।

খবর পেয়ে একই উপজেলার স্বরূপপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, একই ইউনিয়নের মেম্বার হামিদুল ও পাশের জীবননগরের মেম্বার রবিউলের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন তিনি। সেইসঙ্গে দত্তনগর পুলিশ ফাঁড়ির দুইজন কনস্টেবলকে টাকার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

পরে ১৬ লাখ টাকা কেড়ে নেয়ার খবরের সত্যতা বেরিয়ে আসে। বিষয়টি ফোনে পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানকে জানানোর পরে ২৭ নভেম্বর জড়িত ৪ পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করা হয়।

পুলিশের অন্য একটি সূত্র জানায়, ঘটনাটি জানাজানি হলে গত সোমবার দুপুরে তড়িঘড়ি করে মহেশপুর উপজেলার রূপালী ব্যাংক খালিশপুর শাখার ম্যানেজারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ওয়াজির আলীকে নগদ ৮ লাখ টাকা ফেরত দেন ওই ৪ পুলিশ সদস্য। ওই টাকা মহেশপুর উপজেলার রূপালী ব্যাংক খালিশপুর শাখার একটি বিশেষ অ্যাকাউন্টে জমা দেয়া হয়। বাকি ৭ লাখ টাকা ফেরত দেয়ার জন্য ভিকটিমের কাছ থেকে সময় নেয়া হয়।

মঙ্গলবার তদন্ত কমিটির প্রধান সিনিয়র এএসপি তারেক আল মেহেদী হাসান জানান, মঙ্গলবার ঘটনা তদন্ত করতে জীবননগর যান এবং ভিকটিম ওয়াজির আলীর সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। তদন্ত কাজ শেষ করতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে। ভিকটিম ১৬ লাখ টাকা কীভাবে পেলেন এবং তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এএম/আইআই

আপনার মতামত লিখুন :