কক্সবাজারে অপহৃত দুই যুবক ৪ দিনেও উদ্ধার হয়নি
কক্সবাজারের ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কে ডাকাতির পর সিএনজি ও মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে অপহরণের শিকার দুই যুবক ৪ দিনেও উদ্ধার হয়নি।
অপহরণকারী চক্রের দাবি করা মুক্তিপণের ৫০ হাজার টাকা হস্তান্তরের পরও তাদের ছেড়ে না দেয়ায় অপহৃতদের পরিবার উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রয়েছেন।
গত মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) রাত সোয়া ১০টার দিকে সড়কের গজালিয়া পানেরছরা ঢালা এলাকায় এ ডাকাতি ও অপহরণের ঘটনা ঘটে। তবে অপহরণের পর থেকেই তাদের উদ্ধারে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গহীন পাহাড়ে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
অপহৃতরা হলেন- কক্সবাজারের রামু উপজেলার ঈদগড় ইউনিয়নের বায়তুশ শরফ এলাকার খুইল্যা মিয়ার ছেলে নুরুল আমিন ও মৃত আছহাব মিয়ার ছেলে হেলাল উদ্দিন (২০)।
ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মহিউদ্দিন বলেন, সড়কে সিএনজি ও মোটরসাইকেল ডাকাতি ও দুই যুবক অপহরণের খবর পেয়ে অপহৃতদের উদ্ধারে অভিযানে নামে পুলিশ।
রামু ও সদর থানার পুলিশের সঙ্গে বনবিভাগ এবং কমিউিনিটি পুলিশের সদস্যরা অভিযানে অংশ নিচ্ছে। নাইক্যংছড়ি থেকে শুরু করে বান্দরবানের লামা পর্যন্ত পাহাড়ি বিশাল এলাকায় তাদের খোঁজা হয়েছে। যে স্থান দিয়ে তাদের নিয়ে গেছে সেখান দিয়ে দক্ষিণের বিশাল পাহাড়ি এলাকা চষে বেড়ানো হয়েছে। কিন্তু অপহৃতের ফোন থেকে প্রথম মুক্তিপণ চাওয়ার স্থানটি ডুলাহাজারার রংমহল এলাকায়। যা তাদের নিয়ে যাওয়া স্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত।
তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে পরামর্শ না করে শুক্রবার ৫০ হাজার টাকা অপহরণকারীদের বিকাশ করা হয়েছে। কিন্তু টাকা পেয়েও অপহৃতদের ছেড়ে দেয়নি দুর্বৃত্তরা। এতে মনে হচ্ছে অপহরণের সঙ্গে এলাকাগত কোনো শত্রুতা যোগ হয়েছে। সব বিষয় মাথায় রেখেই তাদের উদ্ধারে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
রামুর ঈদগড় পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এএসআই মোরশেদ আলম জানান, টাকা দেয়ার বিষয়টি আমাদের জানানো হয়নি। অপহৃতদের উদ্ধারে গহীন পাহাড়ের সব জায়গায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরোজুল হক টুটুলও অপহৃতদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন।
উল্লেখ্য, গত ১৪ নভেম্বর রাতে ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কের পানের ছড়া ঢালা থেকে ঈদগড় ঠুটার বিল এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ রুবেলকে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা।
দুই দিনের মাথায় ৪০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে তিনি ছাড়া পান। এ সড়কে ধারাবাহিকভাবে ডাকাতি, অপহরণ বেড়ে গেলেও অপহরণকারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।
সায়ীদ আলমগীর/এএম/জেআইএম