বেদখল হয়ে যাচ্ছে ঠাকুরগাঁওয়ের গণকবরগুলো
১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে পাক হানাদার মুক্ত হয়েছিল ঠাকুরগাঁও জেলা। কিন্তু ৪৬ বছর পরও জেলা শহর থেকে পল্লী অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা গণকবর আর বধ্যভূমিগুলো বেহাল অবস্থায় রয়েছে। অধিকাংশ গণকবর আর বধ্যভূমি এখন গো-চারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে। কিছু গণকবর বিক্রি হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এতকিছু সত্ত্বেও নীরব ভূমিকা পালন করছে প্রশাসন।
এতগুলো বছর পেরিয়ে গেলেও কোনো সরকারই শহীদদের স্মৃতির প্রতি যথাযথ সম্মান দেখিয়ে গণকবর ও বধ্যভূমিগুলো সংরক্ষণের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। দু’একটি জায়গায় স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হলেও সেগুলো অযত্নের মধ্যে অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। ১৯৭১ সালে দেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করতে যারা এতটুকু কুণ্ঠিত হননি, আজ সেসব শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী সাধারণ মানুষ পাননি তাদের যথাযথ মর্যাদা।

জানা যায়, ১৯৭১ সালর ১৫ এপ্রিল আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত পাকবাহিনীর দখলে চলে যায় ঠাকুরগাঁও। এরই মধ্যে সংগঠিত হতে থাকে ঠাকুরগাঁওয়ের মুক্তিকামী মানুষ। তারা হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে গড়ে তোলে দুর্বার প্রতিরোধ। ঠাকুরগাঁও ছিল ৬ নম্বর সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত। এখানকার কমান্ডার ছিলেন বিমান বাহিনীর স্কোয়াড্রন লিডার এম. খাদেমুল বাশার। এ সেক্টরে প্রায় ১০ হাজার মুক্তিযোদ্ধা ছিল। ২৯ নভেম্বর এই মহকুমার পঞ্চগড় থানা প্রথম শত্রুমুক্ত হয়। পঞ্চগড় হাতছাড়া হওয়ার পর পাকবাহিনীর মনোবল ভেঙে যায়। এরপর তারা শক্তি বৃদ্ধি করে সদলবলে প্রবেশ করে ঠাকুরগাঁয়ে।

২ ডিসেম্বর রাতেও ঠাকুরগাঁওয়ে প্রচণ্ড গোলাগুলি শুরু হয়। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের জীবনপণ লড়াইয়ে সেই রাতেই শত্রুবাহিনী ঠাকুরগাঁও থেকে পিছু হটে ২৫ মাইল নামক স্থানে অবস্থান নেয়। ভোরে শত্রুমুক্ত হয় ঠাকুরগাঁও শহর । ৩ ডিসেম্বর সকাল থেকেই শহরে মানুষ জড়ো হতে থাকে। শহরের বিভিন্ন রাস্তায় বের হয় আনন্দ মিছিল। জয়ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে এ অঞ্চলের জনপদ।
রবিউল এহসান রিপন/এফএ/এমএস