যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের কার্পেটিং উঠে গেছে : চলাচলের অনুপযোগী
যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের ৩৮ কিলোমিটার সড়কের প্রায় ৩০ কিলোমিটার সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কার্পেটিং উঠে সড়কজুড়ে অসংখ্য ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ দিনেও মহাসড়কটি সংস্কার না করার ফলে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
ঈদের আগে সড়কটি সংস্কার না হলে ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের দুর্ভোগের অন্ত থাকবে না। সড়ক ও জনপথ বিভাগের এক শ্রেণির দুর্নীতি পরায়ন কর্মকর্তাদের নানা দুর্নীতির কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। যে সড়কটির কারণে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে এতো কর্মযজ্ঞ। যার বুক চিরে প্রতিদিন হাজার হাজার কোটি টাকার মালামাল আমদানি-রফতানি করা হচ্ছে। বেনাপোল কাস্টমস হাউজ, বন্দরসহ বিভিন্নভাবে সরকারি কোষাগারে প্রতিদিন জমা পড়ছে বছরে ৩ হাজার কোটি টাকা। সেই সড়কটির প্রতি কারো নজর নেই।
অযত্ম-অবহেলা যা বর্তমানে যান চলাচল দূরে থাক মানুষ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। যে কোনো সময় বন্ধ হয়ে যেত পারে এই মহাসড়কটি। বাংলাদেশে এশিয়ান হাইওয়ের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য জাতিসংঘের ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কমিশন ফর এশিয়া অ্যান্ড দি প্যাসিফিকের (ইউনেসকেপ) একটি প্রতিনিধি দল ২০০৭ সালের ৫ এপ্রিল বেনাপোল স্থলবন্দর পরিদর্শন করে আমদানি-রফতানির ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বেনাপোল বন্দরের গুরুত্বরোপ করেন। সেই সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের সংস্কারের কথা বলেন।
গত বছর এ সড়কটির কিছু অংশ কার্পেটিং করেছিল। তড়িঘড়ি করে কাজটি সম্পন্ন করতে জোড়াতালি দিয়ে সংস্কার করা হয় সড়কটি। ৬ মাস যেতে না যেতে কার্পেটিং উঠে আবার বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, ভারত থেকে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল ও সাতক্ষীরার ভোমরা শুল্ক স্টেশন দিয়ে আমদানি করা হাজার হাজার টন মালামাল এ মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে শত শত ট্রাক যোগে পাঠানো হয়। শত শত দেশি-বিদেশি পাসপোর্টযাত্রী ও পর্যটক এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে থাকে। এছাড়াও যশোরের শার্শা, ঝিকরগাছা উপজেলা ও সাতক্ষীরা জেলাসহ বিভিন্ন উপজেলার লাখ লাখ মানুষ শত শত যানবাহনে চলাচল করেন। এসব এলাকার হাট-বাজার থেকে প্রতিদিন শত শত ট্রাকে ধান চাল দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়ে থাকে।
এই মহাসড়কটির বিভিন্ন স্থানে পিচ, খোয়া উঠে গেলেও সড়ক ও জনপথ বিভাগ তা মেরামত করার কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। বর্তমানে যশোর-বেনাপোল সড়কের অধিকাংশ স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে সড়কটি মৃত্যুর ফাঁদে পরিণত হয়েছে। মাঝে মধ্যে লেখালেখি হলে ইটের আধলা দিয়ে কোনোরকম গর্ত ঠিক করা হয়। দুদিন যেতে না যেতেই আবার তা উঠে যায়। ফলে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন যানবাহনের মালিকরা। প্রতিদিনের দুর্ঘটনায় পঙ্গু হয়ে যাচ্ছে পথচারিসহ মোটর শ্রমিকরা। কিছুদিন চলার পরেই গাড়ি টায়ার দ্রুত ক্ষয়ে যাচ্ছে। টায়ারের সঙ্গে খোয়া ওঠে যানবাহনের গ্যাস ভেঙে যাচ্ছে। 
চট্টগ্রাম বন্দরে গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে ঢাকার সঙ্গ যোগাযোগ রক্ষার জন্য চার লেনের সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। অথচ যশোর-বেনাপোল সড়ক রয়েছে অবহেলিত। যশোর থেকে ৩৮ কিলোমিটার এই সড়কটির করুণ দশার কারণে স্বাভাবিক যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অথচ এই সড়কটির কারণেই দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দরের সব কর্মচাঞ্চল্যতা।
বেনাপোল সোহাগ পরিবহনের ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম জাগো নিউজকে জানান, সড়কের যে অবস্থা তাতে প্রতি ট্রিপে গাড়ি ঠিক করে আবার চালাতে হচ্ছে। গাড়ির ডেমারেজ বেড়ে গেছে দ্বিগুণ। চালকরা অনেক সময় গাড়ি চালাতে অনীহা প্রকাশ করে থাকেন।
সীমান্ত বাস মালিক সমিতির সহ সভাপতি হাফিজুর রহমান জাগো নিউজকে জানান, যশোর থেকে বেনাপোল আসতে আগে সময় লাগতো এক ঘণ্টা। সড়ক খারাপের কারণে এখন দেড় ঘণ্টায়ও বাস পৌঁছাতে পারছে না। অনেক বাস পথে বিকল হয়ে পড়ে থাকছে। গর্তের মধ্যে পড়ে বাসের চাকা বাস্ট হয়ে যাচ্ছে। দ্রুত সড়ক মেরামত করা না হলে বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া কোন উপায় থাকবে না।
এ ব্যাপারে যশোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী ইকবাল জাগো নিউজকে জানান, টানা বর্ষণে মহাসড়কটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মহাসড়কটি পরিদর্শন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে যশোরের চাঁচড়া চেকপোস্ট থেকে নিজস্ব মেশিন দিয়ে মহাসড়কটি সংস্কারের কাজে হাত দেওয়া হয়েছে। ঈদের আগেই মহাসড়কটি চলাচলের উপযোগী করা হবে বলে তিনি আশ্বস্থ করেন। যাতে ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের কোনো সমস্যায় পড়তে না হয়।
মো. জামাল হোসেন/এমজেড/পিআর