শীতে কাঁপছে ঈশ্বরদীর মানুষ

উপজেলা প্রতিনিধি ঈশ্বরদী (পাবনা)
প্রকাশিত: ১১:৩৯ এএম, ০৮ জানুয়ারি ২০১৮
শীতে কাঁপছে ঈশ্বরদীর মানুষ

ঈশ্বরদীসহ উত্তরাঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। সোমবার ঈশ্বরদীর তাপমাত্রা রয়েছে ৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রোববারও একই পরিমাণ তাপমাত্রা ছিল। এই তথ্য দিয়েছেন ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ হেলাল উদ্দিন। ৪ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার থেকে তাপমাত্রা কমতে শুরু করে। ওইদিন সকালে এখানে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

প্রচণ্ড শীতে কর্মজীবী মানুষদের হয়েছে সবচেয়ে অসুবিধা। অনেকে কাজ পাচ্ছেন না। দিনমজুর শ্রেণির মানুষ জন যারা প্রতিদিনের আয়ে সংসার নির্বাহ করেন তারা ভীষণ কষ্টে দিনযাপন করছেন। পদ্মানদীর তীর ঘেঁষা ঈশ্বরদী উপজেলা অঞ্চলে ভারত থেকে ধেয়ে আসা হিমেল বাতাসে তাপমাত্রা নেমে গেছে।

শীতবস্ত্রের অভাবে অনেক মানুষ এখন দুর্বিষহ দিন পার করছেন। অবশ্য ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরিফ নিজ উদ্যোগে দু’দফায় প্রায় ২৫ হাজার কম্বল বিতরণ করেছেন ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া উপজেলায়। তবে প্রয়োজন আরো অনেক বেশি। তিনি সমাজের বিত্তবানদের এ ব্যাপারে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

Cold

হঠাৎ করে শীত বাড়ায় বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে অনেকেই ভর্তি হচ্ছেন ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। বিশেষ করে নবজাতক ও বৃদ্ধরা ঠান্ডাজনিত রোগে বেশি আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বেশ কয়েক দিন ধরেই রাত-দিনের তাপমাত্রা ওঠানামা করছিল। কিন্তু গত সপ্তাহ থেকে হঠাৎ করেই দিনের তাপমাত্রা কমে আসতে শুরু করেছে।

ভোরে ছিন্নমূল মানুষকে খড়-কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করতে দেখা গেছে। এছাড়া শীতের দাপট থেকে বাঁচতে নিম্ন আয়ের মানুষগুলো ভিড় জমাচ্ছেন ঈশ্বরদী শহরের পুরাতন কাপড়ের দোকানে। কম দামে শীতবস্ত্র নিচ্ছেন নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জন্য। তবে সেখানেও স্বস্তি নেই। এখানে বেড়েছে পুরনো শীতবস্ত্রের দাম।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আবদুল বাতেন বলেন, গত কয়েকদিনে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। বিশেষ করে হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করে জন্ম নেওয়া নবজাতক শিশুরা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। মাতৃগর্ভ থেকে জন্ম নেয়ার পরপরই তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নবজাতক ওয়ার্ডে শিফট করতে হচ্ছে। এছাড়া ভর্তিকৃতদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধদের সংখ্যা বেশি। আক্রান্তদের বেশিরভাগই ডাইরিয়া, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, হৃদরোগ, অ্যাজমাসহ বিভিন্ন রোগ নিয়ে হাসপাতালে আসছেন।

আলাউদ্দিন আহমেদ/এফএ/জেআইএম