নওগাঁয় নষ্ট হচ্ছে বোরো বীজতলা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ০৩:০৪ পিএম, ১৯ জানুয়ারি ২০১৮
নওগাঁয় নষ্ট হচ্ছে বোরো বীজতলা

ঘন কুয়াশার সঙ্গে বইছে হিমেল হাওয়া। ফলে হাঁড় কাপানো শীতের তীব্রতা বাড়ছে উত্তরের জনপদ নওগাঁয়। টানা কয়েক দিনের শৈত্যপ্রবাহের ফলে শীত আর ঘন কুয়াশায় বোরো বীজতলা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। চারা গাছগুলো লালচে হয়ে শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। সেইসঙ্গে রবি শষ্যের ফসলে মড়ক দেখা দিয়েছে। কৃষকরা ফসল রক্ষায় নানা পদক্ষেপ নিলেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তা কাজে আসছে না। ধানের বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কৃষকরা সময় মতো আবাদ করতে পারবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে ফসলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

গত কয়েক দিন থেকে শৈত্যপ্রবাহ, শীতের ঠাণ্ডা আর ঘন কুয়াশায় দেখা মেলেনি সূর্যের। ফলে সূর্যের আলো পর্যাপ্ত না পাওয়ায় বোরো বীজতলার পাতা হলুদ ও লালচে হয়ে মারা যাচ্ছে। শুধু বীজতলা নয়, শীতের কারণে আলু, শিম, সরিষা, পেঁয়াজ ও রসুনসহ অন্যান্য রবিশষ্যের খেতে গাছগুলোতে মড়ক (আক্রান্ত) দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে আলুর উৎপাদনে ফলন-বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলন রক্ষায় ছত্রাকনাশক বিভিন্ন কীটনাশক প্রয়োগ করছেন কৃষকরা।

সদর উপজলোর বরুনকান্দি গ্রামের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক, বাচ্চু মিয়া, হুমায়ূনসহ কয়েকজন বলেন, কয়েক দিনের শীতের ঠাণ্ডা ও ঘনকুয়াশার কারণে আলুরখেতে মড়ক দেখা দিয়েছে। গাছের পাতাগুলো কুকড়ে যাচ্ছে। অনেকটা হলুদ হয়ে মরে যাচ্ছে। খেতের মড়ক প্রতিরোধ করতে বিভিন্ন কোম্পানির পাউডার ও তরল কীটনাশক স্প্রে করছি। তারপরও কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। সময়ের আগে গাছগুলো মরে গেলে ফলনের বিপর্যয় হবে।

media

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মনোজিত কুমার মল্লিক বলেন, ঠাণ্ডার কারণে বীজতলায় পচন শুরু হয়েছে। এটা আরো বাড়বে। তবে রবিশষ্যের খেতে বোরো আবাদের জন্য পরে যেসব বীজতলা তৈরি করা হয়েছে সেগুলো বেশি আক্রান্ত হয়েছে। আগের যেসব বীজতলায় বীজ বড় হয়েছে সেগুলোর কোনো সমস্যা হয়নি। তবে শৈত্যপ্রবাহ দীর্ঘস্থায়ী হলে বীজতলা আরো নষ্ট হওয়ার সম্ভবনা আছে। কৃষকদেরও কিছু অলসতা আছে।

জেলা কৃষি অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৮৪ হাজার ৬৪৯ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে কৃষকরা ইতোমধ্যে ৯ হাজার ৭৬০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করেছেন। রোপনকৃত জমির মধ্যে উন্নত ফলনশীল উফশী জাতের ১ লাখ ৭৩ হাজার ৬৭১ হেক্টর এবং হাইব্রিড জাতের ১০ হাজার ৯৭৮ হেক্টর। গত বছর বোরো লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৯২ হাজার ৭৪৮ হেক্টর জমি। আলুর আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ২৩ হাজার হেক্টর নির্ধারণ করা হলেও চাষ হয়েছে প্রায় ২২ হাজার হেক্টর জমিতে।

চলতি মৌসুমে জেলায় সরিষা ২৭ হাজার ৫০০ হেক্টর, পেঁয়াজ ৩ হাজার ৪৩০ হেক্টর ও ১ হাজার ৩৯৫ হেক্টর জমিতে রসুন আবাদ করা হয়েছে।

আব্বাস আলী/এফএ/এমএস