ত্রাণমন্ত্রী দুলু

তিস্তা একসময় মায়ের মতো ছিল, এখন বিধ্বংসী রূপ ধারণ করেছে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুড়িগ্রাম
প্রকাশিত: ০৭:৪০ পিএম, ১৪ মার্চ ২০২৬

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, একসময় তিস্তা নদী মানুষের জীবনের আশীর্বাদ ছিল, মায়ের মতো লালন করতো। কিন্তু বর্তমানে নদীটি বিধ্বংসী রূপ ধারণ করেছে। নদী শাসন ও তিস্তা মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে এ নদীকে নিয়ন্ত্রণে এনে প্রায় দুই কোটি মানুষের জীবনমান উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের সুভারকুটি গ্রামে ‘বিশ্বের সর্ববৃহৎ কড়াই’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের সর্ববৃহৎ কড়াইটি স্বচক্ষে দেখতে এসেছি। বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন দুর্যোগ ও সংকটের সময় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে যে মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এমন একটি মহৎ উদ্যোগের উদ্বোধন করতে পেরে আমি আনন্দিত।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নদী শাসন ও মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে তিস্তা নদীকে নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে কথা বলা হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু হবে বলে আশা করছি।

এদিকে এক লাখ মানুষের খাবার রান্না করার লক্ষ্যে নির্মিত বিশাল কড়াই সম্পর্কে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের কমিউনিকেশন অফিসার মিজানুর রহমান জানান, কড়াইটির ব্যাস ৩১ ফুট ৩ ইঞ্চি, উচ্চতা সাড়ে ৪ ফুট এবং ওজন প্রায় ৪ হাজার কেজি। কড়াইটির নিচে রয়েছে ২২টি বার্নার। বর্তমানে এটিকেই বিশ্বের সর্ববৃহৎ কড়াই হিসেবে দাবি করা হচ্ছে এবং এ স্বীকৃতির জন্য গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে আবেদন করা হয়েছে।

তিস্তা একসময় মায়ের মতো ছিল, এখন বিধ্বংসী রূপ ধারণ করেছে

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব ডিরেক্টর জামাল উদ্দিন বলেন, কুড়িগ্রাম জেলা প্রায়ই বন্যা ও বিভিন্ন দুর্যোগে আক্রান্ত হয়। দুর্যোগকালে বিপুলসংখ্যক মানুষকে দ্রুত খাদ্য সরবরাহের কথা মাথায় রেখে কড়াইটি নির্মাণ করা হয়েছে, যাতে একসঙ্গে অনেক মানুষের খাবার প্রস্তুত করা যায়।

তিনি জানান, উদ্বোধনের দিন (আজ) প্রায় ২০ হাজার মানুষের জন্য ইফতারের আয়োজন করা হয়েছে। জেলার ১০০টি মসজিদের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে এই ইফতার বিতরণ করা হবে। এ ছাড়া পাশের লালমনিরহাট জেলার বড়বাড়ি এলাকায় মন্ত্রীর উপস্থিতিতে আরও প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের জন্য সম্মিলিত ইফতার আয়োজন করা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল মতিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান, সদস্য সচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম বেবু এবং বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের বোর্ড ডিরেক্টর জামাল উদ্দিন প্রমুখ।

রোকনুজ্জামান মানু/কেএইচকে/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।