কপোতাক্ষ নদ গিলে খাচ্ছে দখলদাররা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক খুলনা
প্রকাশিত: ০৯:২৯ এএম, ২৩ জানুয়ারি ২০১৮

কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত তার কবিতায় অমর করে গেছেন কপোতাক্ষ নদকে। কিন্তু সেই কপোতাক্ষে এখন জল খুঁজে পাওয়াই কঠিন। কবির স্বপ্নের কপোতাক্ষ নদ এখন মৃতপ্রায়।

যশোর ও সাতক্ষীরা অঞ্চলের কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলনে কিছু সংস্কার হলেও পাইকগাছার অভ্যন্তর দিয়ে প্রবাহিত সুন্দরবন সংলগ্ন কপোতাক্ষ নদ একেবারেই মরে গেছে। নদটি গিলে খাচ্ছে অবৈধ দখলদাররা।

ঐতিহ্যবাহী কপোতাক্ষ নদ উত্তরবঙ্গ থেকে প্রবাহিত হয়ে সমুদ্র উপকূলবর্তী পাইকগাছা উপজেলার রাড়ুলী ও চাঁদখালী ইউনিয়নের ভেতর দিয়ে কয়রা হয়ে সুন্দরবন অভিমুখে প্রবাহিত হয়েছে। পলি জমে নদের প্রায় ৫০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এলাকা দ্রুত ভরাট হয়ে যাচ্ছে। ফলে রাড়ুলী ও চাঁদখালী ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী এলাকা চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

এক কালের প্রবহমান কপোতাক্ষ নদ কালের বিবর্তনে ভরাট হওয়ায় দু’পাড়ে জেগে উঠেছে বিশাল চর। যা একের পর এক দখল করে নিচ্ছে ভূমিদস্যুরা। হারিয়ে যাচ্ছে কপোতাক্ষের ঐতিহ্য। এছাড়াও নদের চর ভরাটের জায়গায় জনবসতি ও সরকারিভাবে আদর্শ গ্রাম নির্মাণ করায় দখলবাজদের অধীনে চলে যাচ্ছে সমস্ত এলাকা। জোয়ারের সময় কপোতাক্ষ নদে কোনো পানিই ওঠে না।

রাড়ুলী ইউনিয়নের স্যার পিসি রায়ের প্রতিষ্ঠিত আর.কে.বি.কে কলেজিয়েট স্কুল হতে কাটিপাড়া বাজার হয়ে বাঁকা বাজারের পাশ দিয়ে কাটাখালী পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার এবং কাটাখালী হতে চাঁদখালী বাজারের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত সুন্দরবন অভিমুখে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ নদের দু’পার দিয়ে পলি জমে প্রায় ভরাট হয়ে গেছে।

উক্ত সীমানার দু’পার দিয়ে একাধিক স্লুইচ গেট থাকলেও পানি সরবরাহ করতে না পারায় তা সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়েছে। ফলে চাঁদখালী ও রাড়ুলী ইউনিয়নের হাজার হাজার জনগণ বর্ষা মৌসুমে কপোতাক্ষ নদের নাব্যতার অভাবে এবং পানি সরবরাহের জন্য পাউবো কর্তৃক স্থাপিত স্লুইচ গেটগুলো অকেজো হয়ে পড়ায় পানিবন্দি হয়ে পড়ছে। ক্ষতির মুখে পড়ছে হাজার হাজার বিঘা ফসলি জমি ও মাছের ঘের। অথচ কয়েক বছর আগে এ নদে সব সময় চলতো অসংখ্য নৌকা, লঞ্চ, স্টিমার। ইঞ্জিন না থাকলেও পাল তোলা নৌকায় বসে মাঝিরা চলতো তাদের গন্তব্যে। এ নদ ছিল অনেকের জীবন-জীবিকার বড় রকমের উৎস। যার মধ্যে মাছ শিকার, মাঝিদের খেয়া পারাপার, এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত, কিংবা নৌ ভ্রমণ। যা আজ শুধুমাত্র কালের সাক্ষী হয়ে আছে।

এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিশাল এলাকা জুড়ে নতুন নতুন চর জেগে উঠেছে। যা দখল হয়ে যাচ্ছে। জেগে ওঠা চরের কোথাও কোথাও লাগানো হয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। তৈরি করা হয়েছে পাকা ও কাঁচা-পাকা একাধিক বসতবাড়ি এবং ইটের ভাটা। আবার নদের জেগে ওঠা চর ভূমিদস্যুরা অবৈধভাবে দখল করে মাছের ঘের করেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দীন বলেন, কপোতাক্ষ নদ খননের ব্যাপারে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। যেভাবে নদের তলদেশ ভরাট হচ্ছে তাতে সমতল ভূমি হতে আর বেশি দিন বাকি নেই।

স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ অ্যাডভোকেট শেখ মো. নূরুল হক বলেন, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংসদ অধিবেশনে এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। মৃত এই কপোতাক্ষ নদ দ্রুত খননের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছে এলাকাবাসী।

আলমগীর হান্নান/আরএআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।