স্কুলে ফার্নিচার না দিয়েই ৩ কোটি টাকার বিল

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুড়িগ্রাম
প্রকাশিত: ০১:২৫ পিএম, ২৪ জানুয়ারি ২০১৮

কুড়িগ্রাম শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরে অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন মজুমদারের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। ঠিকাদারদের সঙ্গে আঁতাত করে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এমন অভিযোগ খোদ শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বঞ্চিত ঠিকাদারদের। কিন্তু কেউ মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেন না।

একক আধিপত্যের কারণে এ অফিসে স্বাভাবিক কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে স্থবির হয়ে পড়েছে। তার এ অনৈতিক কাজের অন্যতম সহযোগী রংপুর অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান এবং কুড়িগ্রাম শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের হিসাব রক্ষক আমান উল্লাহ বলে জানা গেছে।

অভিযোগে জানা যায়, গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের অধিকাংশ বে-সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকার ফার্নিচার সরবরাহ না করেই ফাইনাল বিল উত্তোলন করেছে একটি সিন্ডিকেট ঠিকাদারি চক্র। এর মধ্যে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শাহী বাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিম্নমানের প্লেন সিট দিয়ে তৈরিকৃত টেবিল, বেঞ্চ ও অন্যান্য ফার্নিচার গ্রহণ করতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। ফলে নিয়োজিত ঠিকাদার বাধ্য হয়ে সেই ফার্নিচারগুলি ফেরত এনে কুড়িগ্রাম শিক্ষা প্রকৌশল চত্বরে স্তূপ করে রাখেন। যা এখনও অবহেলা অযত্নে পড়ে আছে। একই রকম অভিযোগ জেলার নাগেশ্বরী, চিলমারী, রাজারহাট, রাজিবপুর, রৌমারীসহ লালমনিরহাটের ৫ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের।

গত ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে নির্বাচিত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে ৬৭টি বিদ্যালয়ে ৩ কোটি ৫৫ লাখ ২ হাজার টাকার ফার্নিচার সরবরাহের কাজের টেন্ডার নোটিশ জারি করা হয়। নিয়মানুযায়ী শিক্ষা প্রকৌশল কুড়িগ্রাম জোনে দরপত্র খোলার বিধান থাকলেও উক্ত নিবার্হী প্রকৌশলী তা না করে রংপুর শিক্ষা প্রকৌশল অফিসে বসে এই দরপত্র বাক্স খোলেন এবং তার মনোনীত ঠিকাদারদেরকে কাজ পাইয়ে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

শুধু তাই নয় জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কুড়িগ্রাম জোনের প্রায় ২০ কোটি টাকার ই-টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। এর সবগুলো ই-টেন্ডারেই তিনি রংপুরে বসে মেইল হ্যাক করে টাকার বিনিময়ে ঠিকাদার মনোনিত করেন। সেই সঙ্গে এ জোনের বিভিন্ন উপজেলার উন্নয়নমূলক কোনো কর্মকাণ্ডে তার কোনো তদারকি নেই। এর ফলে তার নিয়োজিত ঠিকাদাররা যে যার মতো সিডিউল বহির্ভূত কাজ করে যাচ্ছেন।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শাহী বাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন বলেন, আমার বিদ্যালয়ে ৪০টি সাইড বেঞ্চ, টেবিল ৩টি, আলমারি একটা, চেয়ার ৩টা সরবরাহ করার কথা ছিল। প্রায় দেড় মাস আগে আংশিক মালামাল স্কুলে নিয়ে আসলে তা নিম্নমানের ও দুর্বল হওয়ায় গ্রহণ করিনি। এখন পর্যন্ত কোনো প্রকার ফার্নিচার স্কুলে দেয়া হয়নি। ফলে স্কুলে পাঠদান বিঘ্নিত হচ্ছে।

এ ব্যাপারে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন মজুমদার তদারকি দুর্বলতার কথা স্বীকার করে বলেন, লোকবলের অভাবই এর প্রধান কারণ। রংপুরের দায়িত্বে থাকায় তিনি সবসময় কুড়িগ্রামে আসতে পারেন না। সেজন্য রংপুরে বসে ফাইল নিষ্পত্তি করেন।

নাজমুল হোসাইন/এফএ/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।