কাঁকড়া চাষের প্রযুক্তি নেবে মালয়েশিয়া, দেবে ভেটকির

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ১০:২৪ এএম, ২৮ জানুয়ারি ২০১৮

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ায় ক্রমবর্ধমান মানুষের খাদ্য ও পুষ্টি চাহিদা পূরণের জন্য যৌথভাবে গবেষণা ছাড়াও নিজ নিজ দেশের গবেষণালব্ধ প্রযুক্তি বিনিময় করছেন দুই দেশের বিজ্ঞানীরা। এরই অংশ হিসেবে মালয়েশিয়ান বিজ্ঞানীদের প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় কক্সবাজারে স্থাপিত চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে স্থাপিত হচ্ছে ভেটকি বা কোরাল মাছের পোনা উৎপাদন হ্যাচারি। আর একইভাবে নরম খোলসের কাঁকড়া চাষের উপর বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি যে সাফল্য অর্জন করেছেন সেই প্রযুক্তি গ্রহণ করেছেন মালয়েশিয়ান বিজ্ঞানীরা। ভবিষ্যতে দুই দেশের বিজ্ঞানীরা ভেটেরিনারি মেডিসিন বিষয়েও তাদের গবেষণালব্ধ প্রযুক্তি বিনিময় করবেন।

শনিবার মালয়েশিয়ার খ্যাতনামা পুত্রা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. দা’তিন পাদোকা দা’তো আইনী ইদ্রিস ও চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) উপাচার্য প্রফেসর ড. গৌতম বুদ্ধ দাশ কক্সবাজার শহরতলীর দরিয়ানগরস্থ সিভাসু ক্যাম্পাসে এ তথ্য জানান।

গবেষণা সংক্রান্ত সুবিধা ও কার্যক্রম পরিদর্শনের জন্য শনিবার সকালে ও আগেরদিন বিকেলে মালয়েশিয়ার পুত্রা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউপিএম) প্রতিনিধি দল কক্সবাজার শহরতলীর দরিয়ানগরস্থ সিভাসু ক্যাম্পাসে আসেন। উপাচার্যের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলে আরো উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ হায়ার বিন বেজু ও ডেপুটি ডিন ড. জুনিতা জাকারিয়া।

এ সময় সিভাসুর উপাচার্য ড. গৌতম বুদ্ধ দাশ, ফিশারিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. নুরুল আবছার খান, প্যাথলজি ও সাইটোলজি বিভাগের প্রফেসর ড. আলমগীর হোসেন ও ফিশারিজ বিভাগের প্রভাষক মো. রিদওয়ানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

পুত্রা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. দা’তিন পাদোকা দা’তো আইনী ইদ্রিস শনিবার সিভাসু ক্যাম্পাস পরিদর্শন শেষে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, গবেষণা প্রযুক্তি বিনিময়ের মাধ্যমে দুটি দেশই লাভবান হবে।

সিভাসুর উপাচার্য ড. গৌতম বুদ্ধ দাশ বলেন, গত বছর অক্টোবরে দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে স্বাক্ষরিত এক চুক্তির আওতায় সিভাসুর শিক্ষার্থীরা মালয়েশিয়ার পুত্রা বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং পুত্রা’র শিক্ষার্থী ও গবেষকরা সিভাসুতে উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ পাবে।

তিনি আরো জানান, মালয়েশিয়ার বিজ্ঞানীরা ভেটকি চাষে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে। এ কারণে সেদেশে মৎস্য উৎপাদনে ভেটকির একক অবদান সর্বাধিক। বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলীয় এলাকার পানি ও আবহাওয়া ভেটকি চাষের উপযুক্ত হলেও পোনা সংকটের কারণে এখানে চাষটি বিস্তৃতি লাভ করেনি।

কিন্তু এ চাষের সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে আগামী জুনের পর কক্সবাজার ক্যাম্পাসে ভেটকি চাষের বিষয়ে গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে মালয়েশিয়ার তেরেঙ্গানো বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায়। এর পাশাপাশি দেশের প্রাণি সম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে যৌথ গবেষণা ও প্রযুক্তি বিনিময় হবে মালয়েশিয়ার প্রখ্যাত পুত্রা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে। এরই অংশ হিসেবে ইউপিএম প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশ সফর বলে জানান তিনি।

সায়ীদ আলমগীর/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।