ফুলের সুবাতাসে দুলছে গদখালির ফুল চাষিরাও

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ০৪:৫৭ পিএম, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | আপডেট: ০৫:৩৩ পিএম, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

ফুলের রঙে রঙিন ‘ফুলের রাজধানী’ খ্যাত যশোরের গদখালি। সেই রঙ লেগেছে ফুলচাষিদের মনেও। ফুলের হাসি তাই তাদের চোখে মুখে। গোটা এলাকার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন দোল খাচ্ছে জারবেরা, গোলাপ, গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধা, হলুদ গাঁদা ও চন্দ্রমল্লিকাসহ হরেক রকমের ফুল। বাতাসে ফুটন্ত ফুলের সুবাস ছড়িয়ে যাচ্ছে চারিদিকে।

আবহাওয়া অনুকূল থাকলে এই ফুল থেকেই এ বছর অন্তত ৩৫ কোটি টাকার বাণিজ্য হবে বলে আশা কৃষকদের।

কৃষকরা জানিয়েছেন, যশোরের গদখালির চাষিরা এখন দিনরাত ফুলের বাগানের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। প্রস্তুতি নিচ্ছেন আসছে বসন্ত বরণ, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের বাজার ধরতে।

আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি পহেলা বসন্ত, পরদিন ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। এ দুটি দিবসে প্রিয়জনের মন রাঙাতে মুখিয়ে থাকেন দেশের তরুণ-তরুণীসহ সব বয়সীরা। প্রিয়জনের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম ফুল। তাই মানুষের মনের খোরাক মেটাতে গদখালিতে চাষিরা এখন দিনরাত পরিশ্রম করছেন। ফুল দেরিতে ফোটাতে গোলাপের কুঁড়িতে পরিয়ে রাখছেন ‘ক্যাপ’।

flower

ফলে বসন্ত দিবস, ভালোবাসা দিবস আর ২১ ফেব্রুয়ারিতে ফুল বাজার ধরা নিশ্চিত করা যাবে।

স্থানীয় আড়সিংড়ি গ্রামের বাসিন্দা গদখালির ফুল ব্যবসায়ী শাহাদৎ হোসেন বলেন, সামনে ভ্যালেনটাইনে ডে’তে ফুল বিক্রি বেশি হবে। বাজারে জারবেরা, গোলাপ, রজনীগন্ধ ফুলের চাহিদা বেশি। কৃষকরাও দাম ভালো পাবে।

তিনি আরও বলেন, এবার হরতাল-অবরোধ নেই, রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভালো। আশা করছি কৃষকরা ফুলের ভালো দাম পাবেন। তবে অনেক সময় সরবরাহ বেশি থাকলে দাম কমে যায়।

ফুলচাষি হাফিজা খাতুন হ্যাপি বলেন, সারাদেশে বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে যে ফুল বেচা-কেনা হয় তার অন্তত ৭০ শতাংশই যশোরে উৎপাদিত ফুল। তবে এবারের ভালোবাসা দিবসে ফুলের যেমন উৎপাদন বেশি। তেমনি চাহিদা অন্য যেকোনো বারের তুলনায় বেশি। তাই শহর-নগরের ব্যবসায়ীদের চাহিদা অনুযায়ী আমরা ফুলের অর্ডার নিচ্ছি।

flower

গদখালী বাজারে বসে হাড়িয়া নিমতলা গ্রামের ফুল চাষি আসলাম হোসেন জানান, তিনি ১ বিঘা গোলাপ ও ২ বিঘা গ্লাডিওলাস ফুলের আবাদ করেছেন। বর্তমানে গোলাপ ৩ টাকা ও গ্লাডিওলাস ২/৪ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে।

তিনি বলেন, এক বিঘা গোলাপ রোপনে ৮০ হাজার টাকা খরচ হয়। ৪ হাজার চারার দাম ৪০ হাজার টাকা। আর রোপনসহ অন্যান্য খরচ আরও ৪০ হাজার টাকা। এছাড়াও পরিচর্যার খরচ রয়েছে। একবার রোপনে ৬-৭ বছর পর্যন্ত গোলাপ ফুল পাওয়া যায়। বছরে তিনি অন্তত দুই লাখ টাকা লাভ করতে পারবেন বলে আশা করছেন।

ঝিকরগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপঙ্কর দাস বলেন, বিদায়ী ২০১৭ সালে শুধু গদখালি থেকে ৩০ থেকে ৩৫ কোটি টাকার ফুল বেচাকেনা হয়েছে। এ বছর তা অতিক্রম করবে বলে আশা করছি। ফুল চাষকে লাভজনক করে তুলতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নানা সহায়তা দেয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মিলন রহমান/এমএএস/আইআই