ট্রেনের নিচে চাপা পড়ল কৃষকের স্বপ্ন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি গাজীপুর
প্রকাশিত: ০৮:২২ পিএম, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

গৃহপালিত ৮টি গরুকে নিয়েই স্বপ্ন দেখছিলেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বিন্দুবাড়ী গ্রামের মিয়ার উদ্দিন ও জামিনা দম্পতি। আগামী ঈদুল আজহায় কয়েকটি গরু বিক্রি করে বাড়ির মাটির ঘর ভেঙে ইটের দালানের স্বপ্নে বিভোর ছিলেন তারা। মুহূর্তের মধ্যেই তাদের সে স্বপ্নে বাধা হয়ে দাঁড়াল আন্তঃনগর ট্রেন তিস্তা।

শনিবার সকাল ১০টার দিকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেন তিস্তায় কাটা পড়ে কৃষক মিয়ার উদ্দিনের ৮টি গরু। এতেই সব স্বপ্ন ধুলিস্যাৎ হয়ে যায়।

ট্রেন যাওয়ার পর মুহূর্তেই সংবাদটি পৌঁছে যায় কৃষকের ঘরে। সঙ্গে সঙ্গে চেতনা হারিয়ে ফেলেন কৃষকের স্ত্রী জামিনা। দুপুরের দিকে যখন তার চেতনা ফিরে আসে তখন থেকে শুধুই কেঁদে যাচ্ছেন। এ যেন অনেকটা স্বজন হারানোর বেদনার কান্না। তার কান্নায় আশপাশের পরিবেশ ভারি হয়ে উঠছিল।

জামিনা আক্তার জানান, অনেক সাধনার সম্পদ ছিল তাদের এই গরুগুলো। তিল তিল করে অনেক শ্রমের বিনিময়ে এই গরুগুলোকে সন্তানের মতই লালন-পালন করে বড় করেছিলেন। দীর্ঘ দিনের জমানো সম্পদ বলতে ছিল তাদের ৮টি গরু। এই গরুগুলোর ওপর ভরসা রেখেই তার স্বামী মাঠে চাষাবাদ করত। আবার গাভীগুলো থেকে প্রাপ্ত দুধ বাজারে বিক্রি করে সংসারের নিত্যদিনের প্রয়োজন মিটানো হতো। এই গরুগুলোকে চোরের উপদ্রুপ থেকে রক্ষায় স্বামী-স্ত্রী মিলে গত কয়েক বছর ধরে গরুগুলোর সঙ্গে রাত কাটিয়েছেন। তারা অনেক স্বপ্ন দেখেছেন এই গরুগুলোকে ঘিরে। হঠাৎ করে ট্রেন দুর্ঘটনায় সেই স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল।

কৃষক মিয়ার উদ্দিন জানান, তার সম্পদ বলতে ভিটে মাটি ও এই ৮টি গরু ছিল। অন্যের জমিতে বর্গা চাষ করে তার সংসার চলে। প্রতিদিনের মত গরুগুলোকে মাঠে চড়ানোর উদ্দেশ্যে সকালে বাড়ি থেকে রওনা হন তিনি। গরুগুলো রেললাইন ধরে এগিয়ে চলছিল, তিনি একটু পিছিয়ে পড়েছিলেন। আর এ সময়ে দ্রুতগামী ট্রেন পিষ্ট করে দেয় ৮টি গরু। দেখেন রেললাইনের এদিক ওদিকে ছড়িয়ে রয়েছে গরুগুলোর মরদেহ।

কৃষক দম্পতির একমাত্র ছেলে খোরশেদ আলম জানান, তার বাবা অন্যের জমি বর্গা চাষ করেন। আর দিনের বেশীর ভাগ সময় তার মা মূলত গুরুগুলোর পরিচর্যা করতেন। তাদের থাকার একটি মাত্র মাটির ঘর জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় গরুগুলো বিক্রি করে বাড়িতে নতুন দালান নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। হঠাৎ করে গরুগুলো দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ায় বাড়িতে দালান তোলার স্বপ্ন হয়ে গেল।

শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার সাইদুর রহমান জানান, অসাবধানতায় গরুগুলো রেললাইন ধরে চলায় দ্রুতগামী আন্তনগর ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে মারা যায়। এ বিষয়ে গরুর মালিক সচেতন হলে এ ঘটনা ঘটত না।

আমিনুল ইসলাম/আরএআর/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :