গাইবান্ধায় সাড়া ফেলেছে ডাবল প্ল্যাটফর্ম নলকূপ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি গাইবান্ধা
প্রকাশিত: ০৬:৪৩ পিএম, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

চরাঞ্চলে বন্যাকালীন সময়ে পানির অভাব দূর করে নিরাপদ পানি সরবরাহে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা অক্সফ্যাম ইন বাংলাদেশের অর্থায়নে গাইবান্ধার বেসরকারি সংস্থা এসকেএস ফাউন্ডেশনের রিকল-২০২১ প্রকল্পের উদ্যোগে স্থাপন করা ডাবল প্ল্যাটফর্ম অগভীর নলকূপগুলো।

নলকূপগুলো বিশেষ প্রযুক্তি ও নকশায় তৈরি হওয়ায় বন্যার সময়ে খুব সহজেই নিরাপদ পানি সংগ্রহ করে সুবিধা পেয়েছে হাজার হাজার মানুষ।

রিকল-২০২১ প্রকল্প সূত্র জানায়, জেলার ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার ৭টি গ্রামে ১৫টি ডাবল প্ল্যাটফর্ম অগভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। এসব নলকূপের দুটি প্ল্যাটফর্ম থাকে। একটি সাধারণ নলকূপের মতো ভূমিতলে নিচের প্ল্যাটফর্মের জিআই পাইপের সঙ্গে সংযুক্ত নলকূপ এবং উপরের প্ল্যাটফর্মের জিআই পাইপ একটি অ্যান্ডক্যাপ দিয়ে বন্ধ থাকে।

Gaibandha-Photo-(3)

অপরটি নিচের প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে বন্যাতল থেকে নিরাপদ উচ্চতায় থাকে। বন্যাকালীন নিচের প্ল্যাটফর্মটি ডুবে যাওয়ার আগে এ প্ল্যাটফর্ম থেকে নলকূপটি খুলে উপরের প্ল্যাটফর্মে সংযুক্ত করা হয়। এ সময় নিচের প্ল্যাটফর্মের জিআই পাইপটি অ্যান্ডক্যাপ দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয় যেনো ওই পাইপ দিয়ে বন্যার পানি ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে। বন্যার পানি কমে গেলে পুনরায় নলকূপটি নিচের প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তরিত করা হয়।

এসকেএস ফাউন্ডেশন অক্সফ্যামের সহায়তায় রিকল-২০২১ প্রকল্পটি গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার ফুলছড়ি ও গজারিয়া ইউনিয়ন এবং সাঘাটা উপজেলার সাঘাটা ও হলদিয়া ইউনিয়নে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের কাতলামারী গ্রামে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পাশে স্থাপনকরা ডাবল প্ল্যাটফর্ম অগভীর নলকূপ থেকে পানি সংগ্রহ করছে মানুষ। বন্যাকালীন সময়ে এসব টিউবওয়েল থেকে নিরাপদ পানি সংগ্রহ করে এমন উপকারভোগীর সংখ্যা তিন সহস্রাধিক।

ফুলছড়ি ইউনিয়নের দেলুয়াবাড়ী গ্রামের মছিরন বেগম বলেন, গত বছরের বন্যায় আশেপাশের সব টিউবওয়েল যখন ডুবে গেছে, তখন এ প্রকল্পের টিউবওয়েলটির নিচের প্ল্যাটফর্ম থেকে উঁচু প্ল্যাটফর্মে টিউবওয়েলের হেডটি স্থাপন করি। এতে আমরা নিরাপদ পানি পাই। প্রায় ৬০-৭০টি পরিবার এ টিউবওয়েল থেকে প্রতিদিনই নিরাপদ পানি সংগ্রহ করে রান্নাসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করেছেন।

Gaibandha-Photo-(3)

কাতলামারী গ্রামের গৃহিণী মর্জিনা বেগম বলেন, প্রকল্পটি থেকে আমাদের গ্রামে নলকূপ ও স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা স্থাপন এবং নারী ও কিশোরীদের জন্য গোসল খানা নির্মাণ করে দিয়েছে। এতে নারী ও কিশোরীরা স্বাস্থ্য সম্মতভাবে নিরাপদে গোসল করতে পারছে। কেননা আগে আমরা নদীতে খোলা জায়গায় গোসল করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হতো।

প্রকল্পটির কো-অর্ডিনেটর বাহারাম খান বলেন, দুর্যোগ সহনশীল ডাবল প্ল্যাটফর্মবিশিষ্ট অগভীর নলকূপ এ প্রকল্পের একটি অন্যতম দুর্যোগ উপযোগী অবকাঠামো। যা বন্যার সময়ে দুর্গত পরিবারসমূহ খুব সহজেই পানি প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে পারে। দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় সরকারি-বেসরকারিসহ সব উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো এ ডাবল প্ল্যাটফর্মবিশিষ্ট অগভীর নলকূপ স্থাপন করলে মানুষের অনেক উপকার হবে।

ফুলছড়ি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ইনছার আলী বলেন, সরেজমিনে আমিও এই প্রকল্পের কার্যক্রম পরিদর্শন করেছি। স্থাপন করা দুর্যোগ সহনশীল ডাবল-প্ল্যাটফর্ম নলকূপ বন্যায় নিরাপদ পানি সরবরাহে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বন্যাপ্রবণ এলাকায় এ পদ্ধতিতে নলকূপ স্থাপন করলে বন্যাকালীন সময়ে মানুষের নিরাপদ পানির অভাব দূর হবে।

রওশন আলম পাপুল/এএম/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :