সেই নারীকে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দিল পুলিশ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুষ্টিয়া
প্রকাশিত: ০৮:৫৩ পিএম, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে ছাত্রলীগ নেতার বাড়িতে অবস্থান নেয়া যুবলীগ নেতার সাবেক স্ত্রী জুয়েনা হোসেন লিমাকে শেষ পর্যন্ত পুলিশ প্রহরায় তার বাবার বাড়ি রাজধানীর কেরানীগঞ্জ পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। শুক্রবার সকালে কুষ্টিয়ার খোকসা থানা পুলিশ তাকে পিকআপভ্যানে করে রাজবাড়ী পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে আসে।

এদিকে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ওই ছাত্রলীগ নেতা ও তার পরিবারের লোকজন এখনও আত্মগোপনে রয়েছে। পুলিশ পাহারার মধ্যেও ছাত্রলীগ নেতার কথিত প্রেমিকা ঘরের তালা ভেঙে বাড়ি দখলে নিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সায়েম হোসেন সুজনের চুনিয়া পাড়ার বাড়িতে স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে জুয়েনা হোসেন লিমা নামে এক নারী বুধবার রাত থেকে অবস্থান নেয়। এ সময় কৌশলে ছাত্রলীগ নেতা সুজনসহ তার পরিবারের লোকেরা বাড়িতে তালা লাগিয়ে আত্মগোপনে চলে যায়। খবর পেয়ে বুধবার রাত থেকেই খোকসা থানা পুলিশ বাড়িটিতে পাহারা বসায়। এ সময় বহিরাগতদের সহায়তায় লিমা প্রথমে বাড়ির গেটের তালা ভেঙে ওই বাড়িতে অবস্থান নেয়। পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে একটি কক্ষের তালা ভেঙে সেই কক্ষে অবস্থান নেন। কিন্তু হঠাৎ করেই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে পুলিশ প্রহরা তুলে নেয়া হয়।

এরপর রাত ১২টার দিকে খোকসা থানার এসআই সিরাজ খোকসার স্থানীয় সাংবাদিকদের ডেকে ওই বাড়িতে নিয়ে যান এবং বলেন, মেয়েটি ওই বাড়িতে অন্য একজনের সঙ্গে অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলাকালীন স্থানীয়রা তাকে হাতেনাতে আটক করেছে।

ওই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় একজন সাংবাদিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সুজনের অনুসারীরা ওই মেয়েটিকে খাবার দিতে যাওয়া নাবালক এক ছেলেকে জড়িয়ে মেয়েটির নামে মিথ্যা অপবাদ দেয়ার চেষ্টা করে।

ছাত্রলীগ সভাপতির প্রেমিকা দাবিদার লিমা উপজেলা যুবলীগের একাংশের আহ্বায়ক আবু উবায়দা শাফির তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী। তার বাবার বাড়ি রাজধানীর কেরানীগঞ্জ। প্রায় ১ যুগ আগে তাদের বিয়ে হয়। তাদের ৯ বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান আছে। তার নাম লাবিব মাহমুদ লিপু। পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে কিছু আপত্তিকর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় চলতি মাসের ৭ তারিখে যুবলীগ নেতার সঙ্গে তার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে।

খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা বলেন, মেয়েটি লিখিত কোনো অভিযোগ দিতে রাজি হয়নি। আমরা তার জন্য ওই বাড়িতে পুলিশ প্রহরার ব্যবস্থা করেছিলাম। বৃহস্পতিবার রাতে মেয়েটি বাড়ি ফিরে যেতে চায়। যে কারণে শুক্রবার সকালে পুলিশ প্রহরায় তাকে রাজবাড়ী পর্যন্ত এগিয়ে দেয়া হয়।

আল-মামুন সাগর/আরএআর/আইআই

আপনার মতামত লিখুন :