প্রতিদিন অর্ধকোটি টাকার হলুদ বিক্রি
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে হলুদ চাষ। খরচের তুলনায় দ্বিগুন লাভ হওয়ায় এবং অন্য ফসলের সঙ্গে চাষ করার সুবিধা থাকায় হলুদ চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা। এ উপজেলার বিভিন্ন বাজারে প্রতিদিন প্রায় অর্ধকোটি টাকার হলুদ বিক্রি হচ্ছে। সারাদেশে যাচ্ছে এখানকার হলুদ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শেখপাড়া, চড়িয়ারবিল, মদনডাঙ্গাসহ বিভিন্ন গ্রামের চাষিরা এখন খেত থেকে হলুদ তোলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। হলুদ তোলার পর তা বস্তাবন্দি করে বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় বাজারে। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ হলুদ বিক্রি হচ্ছে প্রকার ভেদে ৮০০ থেকে ১১৫০ টাকা দরে। এই দামে চাষিদের কাছ থেকে হলুদ কিনে সেগুলো সিদ্ধ বা ময়লা পরিষ্কার করে রোদে শুকিয়ে বড় বড় ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
শেখপাড়ার চাষি রবিউল ইসলাম জানান, হলুদ চাষে কোনো লোকসান হয় না। খরচের তুলনায় লাভ অর্ধেকের বেশি। বিয়ে বাড়ি, সাজগোজ কিংবা রান্না সব ক্ষেত্রেই হলুদের চাহিদা রয়েছে।

চড়ুয়ার বিলের চাষি বদর শেখ জানান, হলুদ চাষে আমাদের কখনও লোকসান হয় না। এই ফসলে রোগ-বালাইয়ের আক্রমণ তেমন একটা হয় না। প্রতি বিঘা জমিতে হলুদ চাষে খরচ হয় গড়ে ২৫ হাজার টাকা। ফলন ভালো হলে ৬৫ থেকে ৭০ মন হলুদ পাওয়া যায়।
ঢাকা থেকে আগত ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন জানান, ঝিনাইদহের হলুদ তুলনামূলক অন্যস্থানের হলুদের চেয়ে মানসম্মত। প্রতি মণ হলুদে ৫০ থেকে ৬০ টাকা লাভ থাকে।

শৈলকুপা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার কুণ্ডু জানান, দাম ভালো পাওয়ায় চাষি ও ব্যবসায়ী উভয়ই লাভবান হচ্ছেন। ভালো মানের হলুদ তৈরি করতে নিয়মিতই চাষিদেরকে কারিগরিসহ সকল পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। উপজেলাটিতে এবার এককভাবে ২৭০ হেক্টর এবং সাথী ফসল হিসেবে ৫০ হেক্টর জমিতে হলুদের আবাদ হয়েছে।
আহমেদ নাসিম আনসারী/আরএআর/পিআর