নেত্রকোনায় বয়স্ক-বিধবা-প্রতিবন্ধীদের ভাতা আত্মসাৎ, গ্রেফতার ৩

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ০২:৩০ এএম, ১৬ মার্চ ২০১৮

নেত্রকোনার খালিয়াজুরিতে সোনালী ব্যাংকের এক জুনিয়র ক্যাশ কর্মকর্তা ও সমাজসেবা অধিদফতরের দুই কর্মীর যোগসাজেশে আত্মসাতকৃত বিভিন্ন ভাতার ১৩ লাখ ৫৬ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরকার আবদুল্লা আল মামুন বাবুর হস্তক্ষেপে আত্মসাৎকৃত টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হন ওই তিন কর্মকর্তা। পরে তাদেরকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।

তারা হলেন, সোনালী ব্যাংকের খালিয়াজুরি শাখার জুনিয়র ক্যাশ কর্মকর্তা হারুন-অর-রশিদ, উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কারিগরি প্রশিক্ষক শহিদুল ইসলাম ও ইউনিয়ন মাঠকর্মী মামুন উদ্দিন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, খালিয়জুরিতে ছয়টি ইউনিয়নে মোট ৪,৭৩৮ জন বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতাপ্রাপ্ত রয়েছেন। তাদের মধ্যে বয়স্ক ২৬৯৩, বিধবা ১৫২৬ ও প্রতিবন্ধী ৫১৯ জন। গত সোমবার সকাল থেকে বিভিন্ন ইউনিয়নের ওই সুবিধাভোগীদের মধ্যে সোনালী ব্যাংকের খালিয়াজুরি শাখায় নিজস্ব ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা দেয়া শুরু হয়। সেখানে জুনিয়র ক্যাশ কর্মকর্তা হারুন-অর-রশিদ, উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কারিগরি প্রশিক্ষক শহিদুল ইসলাম ও ইউনিয়ন মাঠকর্মী মামুন উদ্দিনের যোগসাজেশে ভাতাভোগীদের টিপসই নিয়ে প্রতিজনকে ১৫-১৮শ’ করে টাকা কম দেয়া হয়। বয়স্ক ও বিধবাদের ১২ হাজার ৩০০ টাকার মধ্যে ১০ হাজার ৫০০ টাকা এবং প্রতিবন্ধীদের ১৫ হাজার টাকার মধ্যে ১৩ হাজার ২০০ করে প্রদান করেন তারা।

গত বুধবার পর্যন্ত উপজেলার সদর ও গাজীপুর ইউনিয়নে ৯৩৮ জনের মধ্যে টাকা বিতরণ করা হয়। বিষয়টি স্থানীয়রা খালিয়াজুরি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছানোয়ারুজ্জামান জুসেফকে জানানোর পর তিনি ভুক্তভোগীদের নিয়ে বৃহস্পতিবার ইউএনও’র স্মরণাপন্ন হন। পরে সঙ্গে সঙ্গে লোক পাঠিয়ে ঘটনায় জড়িত কর্মকর্তাদের ডেকে আনা হয়। এ সময় ভুক্তভোগীরা অভিযুক্ত ওই ব্যক্তিদের দেখে বিক্ষোভ করেন।

অভিযুক্তরা প্রথমে টাকা আত্মসাতের বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে স্বীকার করে নেন। এ সময় তাদেরকে ইউএনও’র কার্যালয়ের একটি কক্ষে আবদ্ধ রাখা হয়। পরে ইউএনও’র নির্দেশে আত্মসাতের মোট ১৩ লাখ ৫৬ হাজার টাকা ওই তিন ব্যক্তি আলাদা নিজস্ব চেক দিয়ে ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে ভোক্তভোগীদের মধ্যে ফেরত দেন। বৃহষ্পতিবার সন্ধ্যায় তাদেরকে পুলিশে সোপর্দ করে স্থানীয় প্রশাসন।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আব্দুল্লা আল মামুন জাগো নিউজকে বলেন, অভিযোগের কথা আমি শুনেছি। বর্তমানে আটাপাড়া উপজেলায় আমি কর্মরত। বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার আবদুল্লা আল মামুন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সমাজসেবা কার্যালয় ও সোনালী ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজেশে এই টাকা আত্মসাত করা হয়েছিল। তা উদ্ধার করে ভুক্তভোগীদের মধ্যে ফেরত দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরকে বলা হয়েছে।

এ নিয়ে সোনালী ব্যাংক খালিয়াজুরি শাখার ব্যবস্থাপক সুস্থির সরকার জাগো নিউজকে বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবশ্যই বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চালে নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মাদ আরিফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ঘটনাটি শোনার পর আমরা কৌশলে সরকারি টাকা উদ্ধার করি। টাকা উদ্ধারের পর তাদেরকে পুলিশে দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

কামাল হোসাইন/বিএ

আপনার মতামত লিখুন :