মুন্সিগঞ্জে গণপিটুনিতে জোড়া খুনের ঘটনায় মামলা, গ্রেফতার ৫
মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ে সরকারি কমিউনিটি ক্লিনিকের বৈদ্যুতিক তার চুরির অপবাদে গণপিটুনিতে জোড়া খুনের ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৪ মার্চ) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘটনা তদন্তে উঠে আসা জড়িতদের নাম ও পরিচয় শনাক্ত করে এবং দায়েরকৃত মামলার সূত্র ধরে অভিযুক্ত ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতাররা হলেন- ফেরদৌস মাতবর (৩৬), মো. শামীম আহম্মেদ (২৬), শাওন (২৮), নাইম (২০) ও আ. আউয়াল শেখ (২৬)।
এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে লৌহজং উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। এতে লৌহজং উপজেলার গোয়ালীমান্দ্রা গ্রামের ফরহাদ মিয়ার ছেলে সাগর (৩০) ও শহিদুল ইসলামের ছেলে সানারুল (৩০) স্থানীয়দের গণপিটুনিতে নিহত হ।
পরে বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নিহত সানারুলের মা রোকসানা বেগম বাদী হয়ে ৯ জনকে এজাহারনামীয় ও ১৫-২০ জনকে অজ্ঞাতসহ সর্বমোট ২৯ জনকে আসামি করে লৌহজং থানায় মামলাটি করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মুন্সিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মো. ফিরোজ কবির জানান, ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে বৈদ্যুতিক তার চুরি করতে গিয়ে নিহত দুজন হাতে নাতে ধরা পড়েছে- এমন কোনো তথ্য ও প্রমাণ পায়নি পুলিশ। নিহতদের অতীতের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে চুরির অপবাদ দিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করে গণপিটুনি দেওয়া হয়৷ এতে মৃত্যু হয় তাদের।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, নিহতদের ময়নাতদন্ত শেষে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
মব সৃষ্টি করে দুজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, চুরির অপবাদ দিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করা হলে গণপিটুনিতে এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
তিনি জানান, কয়েক ঘণ্টা অবরুদ্ধ রেখে নিহতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে গণপিটুনি দেওয়া হয়। অচেতন অবস্থায় পুলিশ স্থানীয় কয়েকজনের সহযোগিতায় দুজনকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে। বুধবার সকাল ৯টার দিকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে মৃত্যু হয় তাদের।
শুভ ঘোষ/এফএ/এমএস