মালিতে নিহত শান্তিরক্ষী আবুল কালামের দাফন সম্পন্ন
মালিতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীতে কর্মরত অবস্থায় মাইন বিস্ফোরণে নিহত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার আবুল কালাম আজাদের মরদেহ তার নিজ বাড়ি পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার কলারদোয়ানিয়ায় দাফন করা হয়েছে।
শুক্রবার সকাল ৯টায় ঢাকা সেনানিবাসে প্রথম জানাযা শেষে সেনাবাহিনীর মেজর আওলাদ হোসেন এবং মালিতে কর্মরত শান্তিরক্ষী মেজর শাফায়েত হোসেনের নেতৃত্বে হেলিকপ্টার যোগে ঢাকা থেকেআবুল কালাম আজাদের মরদেহ নাজিরপুর স্টেডিয়ামে আনা হয়।
সেখানে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে নিহত কালামের মরদেহ তার পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়। এরপর সেনাবাহিনীর একটি গাড়িতে করে কালামের মরদেহ তার নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দ্বিতীয় জানাযা শেষে দুপুর ২টায় সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধায়নে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় কালামের মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এ সময় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম নিহত কালামের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার উত্তর কলারদোয়ানিয়া গ্রামের মৃত মকবুল হোসেনের চার সন্তানের মধ্যে একমাত্র ছেলে সন্তান আবুল কালাম আজাদ। আজাদের বড় তিন বোনের মধ্যে বড় বোন সুফিয়া শারীরিক প্রতিবন্ধী। সংসারের অভাব-অনটনকে মুক্তি দিতে কলারদোয়ানিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে ১৯৯২ সালের ২২ আগস্ট সেনাবাহিনীতে যোগদান করেছিলেন কালাম। ২০১১ সালের ২৪ ডিসেম্বর কালামের মা মৃত্যুবরণ করেন। এই শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই ৩১ দিন পর চিরদিনের জন্য বাবাকেও হারান।
১৯৯৮ সালের ২৭ জুলাই একই উপজেলার লেবুজিলবুনিয়া গ্রামের শাহজাহানের মেয়ে খাদিজা আক্তারকে বিয়ে করেন কালাম। দাম্পত্য জীবনে তাদের আশনিকা আজাদ ইমা (১৪) ও ফারদিন আহম্মেদ (৯) নামে দুটি সন্তান রয়েছে। ইমা স্থানীয় মুগারঝোর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্রী ও ফারদিন বৈঠাকাটা মাতৃছায়া কিন্ডার গার্টেনের ৪র্থ শ্রেণিতে পড়াশুনা করছে। গত বছরের ২০ মে এক বছরের জন্য জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে যান কালাম।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম আফ্রিকার মালির দোয়েঞ্জা এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে নিয়োজিত বাংলাদেশের চার সেনাসদস্য নিহত হন। এদের মধ্যে পিরোজপুরের সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার আবুল কালাম আজাদ একজন।
হাসান মামুন/আরএআর/পিআর