সেরা দাবাড়ু মেহেদির গল্প

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি বরগুনা
প্রকাশিত: ১০:১২ এএম, ০৯ এপ্রিল ২০১৮

অদম্য ইচ্ছাশক্তির কাছে কোনো প্রতিবন্ধকতাই ধোপে টেকে না। দারিদ্র্য, সে তো নস্যি। দৃঢ় আত্মবিশ্বাস আর নিরবচ্ছিন্ন অধ্যাবসায় থাকলে সকল বাধা বিপত্তিকে পায়ে ঠেলে এগিয়ে যাওয়া যায় বহুদূর। আর সেটাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে বরগুনার কিশোর মেহেদি হাসান। জেলা, উপজেলা আর বিভাগ ডিঙিয়ে মেহেদী হাসানের নাম এখন দেশ সেরা দাবাড়ুদের তালিকায়। বাংলাদেশ যুব গেমস-২০১৮ এর দাবা প্রতিযোগিতায় গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন মেহেদী হাসান।

এক সময় রিকশা চালাতেন মেহেদী হাসানের বাবা বেলাল হোসেন। বর্তমানে বরগুনা শহরের স্টেডিয়াম সংলগ্ন সড়কের এক চিলতে সরকারি জমিতে ক্ষুদ্র একটি রেস্তরাঁ চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি।

মেহেদী হাসানের বাবা বেলাল হোসেন বলেন, ‘এক সময় কত বিরক্ত হয়েছি। কত বকা দিয়েছি। বলেছি, গরিবের ঘরে বসে স্বপ্ন দেখা যায় না। এসব খেলাধুলা বাদ দিয়ে লেখাপড়ায় মনোযোগী হতে। এমনকি গায়েও হাত তুলেছি ছেলের। এখন মনে হয় ভুল করেছি।’

Barguna-Pic-03

বরগুনার গগন মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান। চাচা মনির হোসেনের দাবা খেলা দেখে দাবার প্রতি আগ্রহ তার সেই শৈশব থেকে। এরপর চাচার প্রেরণায় একটু একটু করে জেলা উপজেলা আর বিভাগ ডিঙিয়ে এবার সমগ্র বাংলাদেশ জয় করেছে মেহেদী হাসান ও তার দল।

স্থানীয় একটি উন্নয়ন সংগঠনের উন্নয়নকর্মী হিসেবে কাজ করেন মেহেদীর চাচা মনির হোসেন। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই দাবা খেলার প্রতি মেহেদীর ঝোক আর তার পারদর্শিতা দেখে বুঝে নিয়েছিলাম সে একদিন তার প্রতিভার স্বাক্ষর রাখবে। আর এ কারণেই ওর বাবার অমতেও আমি ওকে সাহস যুগিয়েছি। এখন দেখছি আমার সে শ্রম বিফলে যায়নি।

তবে মেহেদী হাসান বলেন, বড় হয়ে একজন ব্যাংকার হতে চান তিনি। পাশাপাশি দাবা খেলায় বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার স্বপ্ন রয়েছে তার।

সাইফুল ইসলাম মিরাজ/এফএ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।