এক ব্রিজের অভাবে ভোগান্তিতে ৪০ গ্রামের মানুষ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি ঝিনাইদহ
প্রকাশিত: ০৯:৩৪ এএম, ১৫ এপ্রিল ২০১৮ | আপডেট: ০৯:৩৮ এএম, ১৫ এপ্রিল ২০১৮
এক ব্রিজের অভাবে ভোগান্তিতে ৪০ গ্রামের মানুষ

ঝিনাইদহ সদরের সাঞ্চাই নদীর উপর নির্মিত ব্রিজটি গত ২ বছর আগে ভেঙে পড়েছে। নতুন করে ব্রিজ নির্মাণ না হওয়ায় ওই অঞ্চলের অন্তত ৪০ গ্রামের মানুষের যোগোযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বিকল্প পারাপার হিসেবে ব্রিজের পাশে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেছেন এলাকাবাসী। বর্তমানে সাঁকোটিরও বেহাল দশা। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে যাতায়াত করছে মানুষ।

বিশেষ করে এতে শিক্ষার্থীদের অনেক সমস্যা হচ্ছে। ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র কামরুল ইসলাম বলে, আমাদের অনেক ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হয়। ওপার থেকে কোনো সাইকেল এলেও আমদের দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।

সাবেক অধ্যক্ষ ও মানবাধিকার কর্মী আমিনুর রহমান টুকু দাবি করেন, নির্মাণ ত্রুটির কারণেই ব্রিজটি মাত্র ২১ বছরে ভেঙে পড়েছে। আগামীতে যে ব্রিজটি নির্মাণ করা হবে সেটা যেন সঠিক নিয়ম মেনে করা হয়।

media

কৃষক মঞ্জের আলী জানান, এলাকার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। কৃষিপণ্য একবারে পারাপার করতে পারছি না। এতে সময় যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি আমাদের খরচও বাড়ছে।

ফুরসন্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুল মালেক জানান, ঝিনাইদহের নারিকেলবাড়িয়া-টিকারী সড়কের টিকারী বাজারের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে সাঞ্চাই নদী। এ নদীর উপর বাজারের কাছেই ১৯৯৪ সালে নির্মাণ করা হয় ব্রিজটি। এলজিইডি বিভাগ ব্রিজটি নির্মাণ করে। এই ব্রিজের উপর দিয়ে চলাচল করত ঝিনাইদহের জিতড়, ভবানীপুর, ধননঞ্জয়পুর, মাড়ন্দি, নারিকেলবাড়িয়া, টিকারী, দহখোলা, লক্ষিপুর, মালঞ্চিসহ অন্তত ৪০ গ্রামের মানুষ। তাদের চলাচলের একমাত্র পথ এ রাস্তাটি। ব্রিজটি না থাকায় মালামাল নিয়ে প্রায় ২০-২৫ কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে তাদের।

জেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২ বছর আগে ব্রিজটি ভেঙে পড়ে। এরপর গত ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে ব্রিজটি নতুন করে নির্মাণের জন্য টেন্ডার হয়। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার কাজ না করায় চলতি অর্থ বছরে দ্বিতীয়বারের মতো টেন্ডার করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমান ঠিকাদার এখনও পর্যন্ত কাজ শুরু করেননি। তাই ঝিনাইদহ ও মাগুরা জেলার মধ্যে যোগাযোগের অন্যতম এ সড়কটি দিয়ে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। ফলে অসহায় হয়ে পড়েছে এলাকার, কৃষক, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীরা। অতি দ্রুত ব্রিজটি নির্মাণের দাবি এলাকার সর্বস্তরের মানুষের।

media

ঠিকাদার মনিরুজ্জামান রানা জানান, যদি কোনো দুর্যোগ না হয় তাহলে আগামী দুই মসের মধ্যেই নির্মাণ কাজ শেষ করতে পারবো বলে আশা করি।

ঝিনাইদহ এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মালেক জানান, ৫৪ মিটার আরসিসি গাডার ব্রিজটি প্রথমে ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে প্রথম টেন্ডার করা হয়। পরে আবারও ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে টেন্ডার করা হয়। সাঞ্চাই নদীর এ ব্রিজের উপর দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করে থাকেন এলাকার হাজারো মানুষ। খুব শিগগিরই ব্রিজটি নির্মাণ করা হবে। আগের ঠিকাদার কাজ করতে ব্যর্থ হয়। তাই ব্রিজটি নির্মাণের জন্য দ্বিতীয়বারের মতো টেন্ডার সম্পন্ন করতে হয়েছে।

আহমেদ নাসিম আনসারী/এফএ/এমএস