হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর সীমানা নির্ধারণসহ ৫ দাবি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৪:১৯ পিএম, ০৩ মে ২০১৮

হবিগঞ্জ শহরে পুরাতন খোয়াই নদীর পূর্ণাঙ্গ সীমানা নির্ধারণ, দখল ও দূষণমুক্ত করার দাবিতে স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন জেলা শাখার পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবীর মোরাদের নিকট এ স্মারকলিপি দেয়া হয়।

এতে উপস্থিত ছিলেন বাপা জেলা সভাপতি অধ্যাপক মো. ইকরামুল ওয়াদুদ, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ আহমদুল হক, বাপা সহ-সভাপতি তাহমিনা বেগম গিনি, সাধারণ সম্পাদক ও খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার তোফাজ্জল সোহেল, সদস্য আলাউদ্দিন আহমেদ, কবি পারভেজ চৌধুরী ও মো. আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ৫ কি.মি লম্বা পুরাতন খোয়াই নদী হবিগঞ্জ শহরের প্রধানতম জলাধার। বর্ষা মৌসুমে শহরের বৃষ্টির পানি ধারণ ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় খোয়াই নদীর ভূমিকা অপরিসীম। অথচ কিছু স্বার্থান্বেষী মহল নদীটিকে দখল করার কারণে শেষ চিহ্ন মুছে যেতে চলেছে। নদীটি ক্রমাগত ভরাট ও অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠার কারণে বর্তমানে বর্ষা মৌসুমে অল্প বৃষ্টি হলেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। যা শহরের নিম্নাঞ্চলে কৃত্রিম বন্যা হিসেবে রূপ নেয়। এতে ভুক্তভোগী এলাকার মানুষকে দুর্গন্ধময় ও আবর্জনা মিশ্রিত পানিতে আবদ্ধ অবস্থায় বসবাস করতে হয়। অথচ কয়েক বছর ধরে চলা আসা এসব সমস্যা দূরীকরণে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। এভাবে নদীটি ধবংস করা হলে হবিগঞ্জে শুধু পরিবেশ বিপর্যয়ই নয়, ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় নেমে আসবে। তাই অনতিবিলম্বে খোয়াই নদীটিকে রক্ষা করার বিকল্প নেই।

স্মারকলিপিতে ৫টি দাবি উপস্থাপন করা হয়। এগুলো হচ্ছে- অবিলম্বে খোয়াই নদীর পূর্ণাঙ্গ সীমানা চিহ্নিত করা, নদীতে গড়ে উঠা সকল অবৈধ স্থাপনা ও দখল উচ্ছেদ করে নদী খনন করা। নদীকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে দখলদারদের মাধ্যমে ভরাট অংশের মাটি সরিয়ে নিতে ব্যবস্থা গ্রহণসহ দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, নদীর উভয় পাড়ে প্রয়োজনীয় স্থানসমূহে গাইড ওয়াল ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা। নদীর পাড়ে ঘাস লাগানো, গাছ রোপন, মানুষের বসার স্থান করা ও নদী রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের সমন্বয়ে নদী রক্ষা মনিটরিং টিম গঠন করা।

সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন/আরএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।