পুলিশের ধাওয়ায় নদীতে পড়া ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার
বরিশালের মুলাদী উপজেলায় পুলিশের ধাওয়ায় নদীতে পড়ে যাওয়া ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার পৌর সদরের নয়াভাঙনি নদীর পশ্চিম চরপত্তনীভাঙা এলাকা থেকে ব্যবসায়ী জামাল খানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত জামাল খান মুলাদী পৌরসভার ৪নম্বর ওয়ার্ডের মোয়াজ্জেম হোসেন খানের ছেলে। তিনি মুলাদী বন্দরে কাঠের ব্যবসা করতেন।
বুধবার বেলা ২টার দিকে পশ্চিম চরপত্তনীভাঙা গ্রামের মহসিন দর্জির বাড়ির দক্ষিণ পাশে অবস্থানের সময় পুলিশের ধাওয়া খেয়ে নদীতে পড়ে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের অবহেলায় জামাল খানের মৃত্যু হয়েছে।
নিহতের স্বজনরা জানান, বুধবার সকাল ৯টার দিকে জামাল খান গাছ কেনার জন্য বেশ কিছু টাকা নিয়ে চরপত্তনীভাঙা এলাকায় যায়। দুপুর দেড়টার দিকে পুলিশের কাছে সংবাদ আসে পশ্চিম চরপত্তনীভাঙা গ্রামের করিম দর্জির বাড়িতে জুয়া খেলা চলছে।
সংবাদ পেয়ে মুলাদী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সাইদ আহমেদ তালুকদার, এসআই ফকর উদ্দীন, এসআই মনির হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ জুয়াড়িদে ঘিরে ফেলে এবং টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিয়ে লাঠিচার্জ শুরু করে।
পুলিশের লাঠিচার্জের সময় বেশ কয়েকজন জুয়াড়ি নদীতে লাফিয়ে পড়ে। ওই সময় ব্যবসায়ী জামাল খান পুলিশের লাঠিচার্জ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে দৌড়ে একপর্যায়ে নদীতে পড়ে যান। নদীতে পড়ে যাওয়া সবাই পাড়ে উঠতে পারলেও জামাল খান নিখোঁজ হন।
এ সময় স্থানীয়রা নিখোঁজের বিষয়টি পুলিশকে জানিয়ে উদ্ধারের অনুরোধ করলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করে দুইজনকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে মুলাদী থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) সাইদ আহমেদ তালুকদার জানান, বুধবার ঘটনার সময় অনেকেই নদীতে ঝাপিয়ে পড়ে। ওই সময় জামাল খানের পানিতে ডুবে যাওয়ার বিষয়টি পুলিশের জানা ছিলো না।
সাইফ আমীন/এএম/জেআইএম