স্কুল মাঠে মাটি ভরাটের টাকা নিয়ে নয়-ছয়

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মুন্সীগঞ্জ
প্রকাশিত: ১১:৪০ এএম, ২১ মে ২০১৮

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ব্রাহ্মণখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ ভরাটের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় এক লাখ ৯০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ খেলার মাঠ ভরাট না করে তন্তর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) তৎকালীন চেয়ারম্যান আলী আকবর ওই টাকা আত্মসাৎ করেন।

তবে আলী আকবর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রায় তিন বছর আগেই স্কুলের নতুন ভবন নির্মাণের সময় উত্তর পাশের গর্ত ভরাটে ওই টাকা ব্যয় হয়েছে। ওই ভবন নির্মাণের ঠিকাদার হানিফ এ বিষয়ে অবগত।

সরকারি অর্থ অন্য খাতে ব্যয় করার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলে, ‘প্রয়োজন হয়েছে, তাই করেছি।’

বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন অভিযোগ করে বলেন, স্কুলের খেলার মাঠে এক কোদালও মাটি ফেলেননি সাবেক চেয়ারম্যান। এই প্রকল্পের সব টাকা আত্মসাৎ করেছেন তারা। তাদের এই কাজের জন্য শিক্ষার্থীরা আজ খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত।

তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ব্রাহ্মণখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক লাখ ৯০ হাজার টাকার প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু বিদ্যালয়টির খেলার মাঠে মাটি ভরাট করা হয়নি। প্রকল্প সভাপতি আব্দুল আজিজ, সাধারণ সম্পাদক আলেয়া বেগম, সদস্য ও অনুমোদনকারী ইউপি চেয়ারম্যান আলি আকবর, সদস্য শহিদুল ইসলাম ও মাসুদের যৌথ স্বাক্ষরে ভাউচার তৈরি করে পুরো টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

স্কুল কমিটির সাবেক সভাপতি তরিকুল ইসলাম বাবু বলেন, সাবেক চেয়ারম্যান আলি আকবর ও ইউপি সদস্য আব্দুল আজিজ একটি সভা করেছিলেন। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাগানবাড়ি পুকুর থেকে ড্রেজার দিয়ে মাটি কেটে বিদ্যালয়ের মাঠে ফেলার কথা ছিল। পুকুরে ড্রেজার বসালে লিজগ্রহীতার মৎস্য প্রকল্পের ক্ষতি হবে বলে মালিক মাটি কাটতে দেয়নি। তাই মাটি কাটা বন্ধ হয়ে যায়। তার পরে ওই মাটি ভরাটের কাজ হয়নি।

বিদ্যালয় সূত্র জানায়, এলজিএসপি প্রকল্পের আওতায় মাঠ ভরাটের কাজ হওয়ার কথা ছিল। যা বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন করেছে। তবে মাঠে কোনো মাটি ফেলা হয়নি। এখনও বিভিন্ন স্থানে গর্ত রয়েছে। বর্তমানে মাঠটি খেলার জন্য অনুপযোগী।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছাবিনা ইয়াছমিন বলেন, আগের ঘটনা জানা নেই। তবে স্কুলে খেলার মাঠে মাটি ভরাটের সরকারি টাকা এসেছিল বলে শুনেছি।

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, আমি কমিটিতে নতুন। আমার কাছে এ ব্যাপারে কোনো তথ্য নেই।

ভবতোষ চৌধুরী নুপুর/এফএ/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :