উলিপুরে ডায়রিয়ায় ৩ জনের মৃত্যু, বাড়িতে লাগানো হচ্ছে ভূততাড়ুয়া

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুড়িগ্রাম
প্রকাশিত: ০৮:৫৭ পিএম, ২৯ মে ২০১৮

কুড়িগ্রামে উলিপুরে একই পরিবারের ৬ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর ৩ জন মারা গেছে। এ নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ঢাকা থেকে ৪ সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল লক্ষণ দেখে কলেরা বলে ধারণা করছেন। মঙ্গলবার আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন ও সিভিল সার্জন ডা. এসএম আমিনুল ইসলাম।

এ সময় উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডা. বোরহান উল কবির সিদ্দিকী ও বেগমগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন। ঘটনাটি ঘটেছে দুধকমুর ও ধরলা নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের প্রত্যন্ত মিয়াজী পাড়া গ্রামে।

বেগমগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন জানান, একই পরিবারের ৭ সদস্যের মধ্যে ৬ জনই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়। প্রথমে মজিয়া বেগম (৪৪), স্বামী মালেক (৪৮) ও পূত্র সুমন (৩) আক্রান্ত হলে ১৪ মে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। পরদিন শ্বশুর নছিমুদ্দিন (৮০) ও মেয়ে নাসরিন (৭) আক্রান্ত হয়। এ সময় বাড়িতে সেবা করার মতো কেউ না থাকায় বমি ও পাতলা পায়খানায় দু'জনে কাহিল হয়ে পড়ে। মধ্যরাতেই দুজন অসুস্থ অবস্থায় মারা যায়।

খবর পেয়ে মজিয়া বেগম স্বামী-সন্তানসহ হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ছুটে আসে। পরদিন ১৬ মে ২২ দিন বয়সী শিশুকন্যা রোমানা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ১৮ মে মারা যায়। ঘটনা সামাল দিতে ঢাকা থেকে ৪ সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে এসে সরেজমিন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে স্যাম্পল সংগ্রহ করে চলে যান। এদিকে গ্রামের বয়স্ক লোকজন তুকতাক করে দূষিত বায়ু ও ভূত ছাড়াতে বাড়ির টিনের চালে ভূত তাড়ানি স্থাপন করেছে।

উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডা. বোরহান উল কবির সিদ্দিকী জানান, ঘটনার পর পরই বিশুদ্ধ পানির জন্য নলকূপ ও পায়খানা স্থাপন করা হয়। স্বাস্থ্যকর্মীরা স্যালাইনসহ দেখভাল করছে। ইতোমধ্যে ২৫ জনের মতো আক্রান্ত হলেও বেশিরভাগ রোগী সেড়ে উঠেছে। পরিস্থিতি উন্নতির দিকে।

এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন ডা. এসএম আমিনুল ইসলাম জানান, ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আছে। ইতোমধ্যে এলাকাবাসীকে পানি ফুটিয়ে খেতে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। পর্যাপ্ত স্যালাইন ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সরবরাহ করা হয়েছে। লক্ষণ দেখে বিশেষজ্ঞ দল কলেরা হতে পারে বলে সন্দেহ করছেন। ঢাকায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কি হয়েছে জানা যাবে?

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে এসে জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন জানান, ইতোমধ্যে ওই এলাকায় ৬টি নলকুপ ও ১৫টি স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন স্থাপন করা হয়েছে। মৃত. নছিমুদ্দিনের স্ত্রীকে বয়স্কভাতা এবং ওই পরিবারকে জিআর চাল দিতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

নাজমুল/এমএএস/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।