বদলগাছীতে স্মার্টকার্ড দেয়ার নামে প্রতারণা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ১২:০৭ পিএম, ০৪ জুলাই ২০১৮

 

নওগাঁর বদলগাছীতে স্মাটকার্ড দেয়ার নামে গ্রামবাসীর কাছ থেকে ফিঙ্গার প্রিন্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি সংগ্রহ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ২৬ জুন উপজেলার বিলাশবাড়ী ইউনিয়নের হাজীপুর গ্রামের প্রায় চার শতাধিক ব্যাক্তির কাছ থেকে এসব তথ্য সংগ্রহ করেন দুই ব্যক্তি। পরে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে গ্রামের কয়েকজন এ বিষয়ে বদলগাছী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

প্রতারক চক্রটি এসব ফিঙ্গার প্রিণ্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিয়ে মোবাইলের সিম তুলে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করতে পারেন বলে ধারণা করছে পুলিশ। এছাড়া প্রতারক চক্র থেকে জনগণকে সতর্ক করতে উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে।

জানা গেছে, গত ২৬ জুন উপজেলার হাজীপুর গ্রামে মোটরসাইকেল যোগে দুই ব্যক্তি এসে নিজেদের নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের লোক বলে পরিচয় দেয়। তারা গ্রামবাসীকে বলেন- সরকার থেকে স্মাটকার্ড দেয়া হবে। এজন্য ফিঙ্গার প্রিন্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্রে ফটোকপি লাগবে। একথা বলে তারা ওই গ্রামের প্রায় চার শতাধিক নারী পুরুষের ফিঙ্গার প্রিন্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্রে ফটোকপি সংগ্রহ করে। ফিঙ্গার প্রিন্ট নিতে ওই প্রতারক চক্র দুটি আলাদা ট্যাব ব্যবহার করে। এভাবে তিনদিন কাজ করার পর ওই গ্রামের হাফিজুর রহমান বাবু বিষয়টি বদলগাছী উপজেলা নির্বাচন অফিসকে অবগত করেন। নির্বাচন কর্মকর্তা মুঠোফোনে ওই দুই ব্যক্তির সঙ্গে কথাও বলেন। কিন্তু নির্বাচন কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই সেখান থেকে চলে যান তারা। পরে প্রতারণার বিষয়টি ফাঁস হয়। এ নিয়ে গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ওই গ্রামের বাসিন্দা জিয়াউর রহমান, রশিদুল ও তোজাম্মেলসহ কয়েকজন বলেন, সরকার থেকে স্মার্টকার্ড দেয়ার নামে আমাদের কাছ থেকে ফিঙ্গার প্রিন্ট ও জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি সংগ্রহ করে ওই প্রতারক চক্র। বিষয়টি নির্বাচন অফিসে জানালে তারা সটকে পড়ে। এগুলো নিয়ে আমাদেরকে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়ানো হতে পারে বলে আতঙ্কে রয়েছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে খতিয়ে দেখার জন্য অনুরোধ করছি।

বদলগাছী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শফি উদ্দীন শেখ বলেন, বিষয়টি জানার পর চক্রটিকে আটকাতে বলেছিলাম কিন্তু তারা পালিয়ে যায়। ওই দুই ব্যক্তির একজন মুঠোফোনে আমাকে জানিয়েছেন তার নাম মামুন। বাড়ি বগুড়ার কাহালুতে। নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের নজরুল ইসলাম তাদের পাঠিয়েছেন বলে জানান।

এলাকাবাসীকে সচেতন হতে মাইকিং করা হয়েছে।

বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দীন বলেন, বিষয়টি নিয়ে হাজীপুর গ্রামের কয়েকজন ভুক্তভোগী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। চক্রটি সংগৃহীত ফিঙ্গার প্রিন্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিয়ে মুঠোফোনের সিম তুলে তা দিয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে।

আব্বাস আলী/এমবিআর/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।