ধর্ষণের পর শিশুকে হত্যা, সৎবাবার মৃত্যুদণ্ড

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি বাগেরহাট
প্রকাশিত: ০৬:১৫ পিএম, ১৮ জুলাই ২০১৮

বাগেরহাটের শরণখোলায় নয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে সৎবাবা আলামিন হাওলাদারকে (৩৬) মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেন বিচারক।

হত্যাকাণ্ডের প্রায় দুই বছর পর বুধবার দুপুরে বাগেরহাটের অতিরিক্ত দায়রা জজ-১ ও শিশু আদালতের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আলামিন হাওলাদার বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার মঠেরপাড়া গ্রামের ফজলুল হক হাওলাদারের ছেলে। রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিল আলামিন। হত্যার শিকার শিশু মায়া শরণখোলা উপজেলার সদরের রায়েন্দা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, ২০১৬ সালের উপজেলার মঠেরপাড়া গ্রামের আলামিনের সঙ্গে মায়ার মা পুতুল বেগমের বিয়ে হয়। ওই বছরের ২০ ডিসেম্বর সকালে আলামিন তার স্ত্রী পুতুল বেগমকে ফোন করে মুরগি নিতে মায়াকে বাজারে পাঠাতে বলে। ফোন পেয়ে একটি ভ্যানে করে মেয়েকে বাজারে পাঠায় পুতুল বেগম। এরপর থেকে শিশুটি নিখোঁজ ছিল। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও শিশুটির সন্ধান না পেয়ে ওই দিন রাতে পরিবারের লোকজন পুলিশকে জানায়।

শরণখোলা থানা-পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে শিশু মায়ার সৎবাবা আলামিনকে গ্রেফতার করে। জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করে আলামিন। আলামিনের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পরদিন মঠেরপাড়া গ্রামের লিটু মিয়ার ধানখেত থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় ২১ ডিসেম্বর নিহত শিশুর নানা কামরুল হাসান দুলাল বাদী হয়ে শরণখোলা থানায় একটি ধর্ষণ ও হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শরণখোলা থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আমির হোসেন সৎবাবা আলামিনকে অভিযুক্ত করে ২০১৭ সালের ২০ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালত ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আজ এ রায় ঘোষণা করেন।

শওকত আলী বাবু/এএম/জেআইএম