এক ফোঁটা বৃষ্টির জন্য হাহাকার
এখন ভরা বর্ষাকাল। আষাঢ় গেল। চলছে শ্রাবণ মাস। কিন্তু শ্রাবণের ধারা বইছে না। আর এতে আমনের আবাদ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন নওগাঁর চাষিরা। গভীর ও অগভীর নলকূপ থেকে পানি দিয়ে জমি তৈরি করায় বাড়তি খরচ গুণতে হচ্ছে তাদের। আবার অনেক এলাকায় সেই সুবিধাও নেই। ফলে আমন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ব্যহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, এ বছর ১ লাখ ৬১ হাজার ২৬৭ হেক্টর জমিতে আমনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু এখন মাত্র পর্যন্ত ৩৮ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়েছে। এছাড়া ৬৩ হাজার ৩৬০ হেক্টর জমিতে আউশের আবাদ করা হয়েছে।
বরেন্দ্র এলাকা নওগাঁর সাপাহার, পোরশা, নিয়ামতপুর, পত্নীতলা ও ধামইরহাট উপজেলায় এখনও চাষাবাদের জন্য জমি তৈরি করা হয়নি। মাঠের পর মাঠ জমি বৃষ্টির কারণে অনাবাদি পড়ে আছে। সেখানে গরু-ছাগল চরে বেড়াচ্ছে।

আষাঢ়-শ্রাবণ মাস আমনের চারা রোপণের উপযুক্ত সময়। এ মৌসুমে বৃষ্টির ওপর নির্ভর করে জমিতে চাষাবাদ করা হয়ে থাকে। কিন্তু বর্ষার একমাস চলে গেলেও বৃষ্টির কোনো দেখা নাই। তবে অনেক কৃষক বৃষ্টির অপেক্ষায় না থেকে গভীর ও অগভীর নলকূপ থেকে পানি নিয়ে জমিতে চারা রোপণ করেছেন। কিন্তু পানির অভাবে সে জমিগুলোও শুকিয়ে গেছে।
পুকুর বা খালের পানি দিয়ে কোনো রকম চাষাবাদ করছেন কৃষকরা। পুকুরের পানি সেচের মাধ্যমে বীজতলায় বীজ বপন করলেও সে চারা দিয়ে সামান্য পরিমাণ জমিতে রোপণ করা হয়। এলাকার কৃষকরা ৩-৪শ’ টাকা দিয়ে প্রতি বিঘা জমিতে পানি সেচের মাধ্যমে ধান লাগাতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
পোরশা উপজেলার ছাওড় গ্রামের আইয়ুব আলী ও সরাইগাছি গ্রামের কাজী আব্দুল মান্নান বলেন, আমনের আবাদের জন্য আমাদের বৃষ্টির পানি ওপর নির্ভর করতে হয়। পুকুরের পানি দিয়ে জমিতে চারা রোপণ করা হয়েছে। এছাড়াও পানির অভাবে রোপিত চারা পরিপক্ব হচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে বৃষ্টির অভাবে আমরা ধান লাগাতে পারব না।

সাপাহার উপজেলার কাশিতাড়া গ্রামের বাবুল আকতার বলেন, এ বছর পুকুরের পানি দিয়ে কোনো রকম ৫ বিঘা জমিতে স্বর্ণা-৫ জাতের ধানের চারা লাগিয়েছি। এরপর জমিতে ধানের চারা বাঁচিয়ে রাখতে গভীর নলকূপ থেকে ঘণ্টায় ১২০ টাকা সেচে পানি দিতে হচ্ছে। যেখানে আমরা বৃষ্টির পানির উপর নির্ভর করে আবাদ করতাম এখন গভীর নলকূপ থেকে পানি কিনে ফসল করতে বাড়তি টাকা গুণতে হচ্ছে।
পোরশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহফুজ আলম বলেন, চলতি আমন মৌসুমে উপজেলায় আমনের লক্ষ্যমাত্রা ১৩ হাজার ২৯৫ হেক্টর নির্ধারণ করা হয়েছে। আর এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৩শ’ হেক্টর আবাদ করা হয়েছে। তবে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। বৃষ্টি হলে দ্রুত চারা রোপণ করা হবে। অনাবৃষ্টি হতে থাকলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সমস্যা হতে পারে।
নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মনোজিত কুমার মল্লিক বলেন, এ বছরের শুরু থেকেই খরা চলছে। সেচ সুবিধা না থাকায় কিছু এলাকায় চাষিরা এখনও চারা রোপণ করতে পারছেন না। তবে তাদের এখনই উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। আমনের চারা আশ্বিন মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্তও রোপণ করা যায়। এর মধ্যে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভবনা আছে। আর চারা রোপণ করা গেলে লক্ষ্যমাত্রাও অজির্ত হবে বলে আমরা আশাবাদী।
আব্বাস আলী/এফএ/পিআর