৫ মেয়র প্রার্থীর ৪ জনই বর্জন করলেন পৌর নির্বাচন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৭:৩৮ পিএম, ২৫ জুলাই ২০১৮

সাড়ে সাত বছর পর অনুষ্ঠিত কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচনে ভোট ডাকাতির অভিযোগ এনে একযোগে চার মেয়রপ্রার্থী নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।

আওয়ামী লীগ প্রার্থী ছাড়া বাকি চার প্রার্থীই একযোগে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়ায় উদ্বিগ্ন পৌরবাসী।

বুধবাার অনুষ্ঠিত কক্সবাজার পৌরসভা নির্বাচনে পাঁচজন মেয়র প্রার্থী অংশ নেন। এদের মাঝে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মুজিবুর রহমান ছাড়া বাকি চারজনই নির্বাচন বর্জন করে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন।

ভোট ডাকাতি, ব্যালট পেপার ছিনতাই, জাল ভোট প্রদান, নৌকা প্রতীকে জোর করে সিল মারা, এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ এনে বুধবার বিকেল ৩টায় ওই ৪ মেয়র প্রার্থী পৃথক পৃথকভাবে ওই ঘোষণা দেন।

১৯টি ভোটকেন্দ্রে নজিরবিহীন ভোট ডাকাতি এবং বাকি ২০টি কেন্দ্রে ব্যালট পেপার সংগ্রহ করা হয়নি অভিযোগ তুলে কক্সবাজার জেলা বিএনপি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ৩৯ ভোট কেন্দ্রের সবকটিতেই সাধারণ ভোটাররা ভোট দিতে পারেনি। তারা (আওয়ামী লীগ লোকজন) নিজেরাই ভোট দিয়ে বাক্স ভর্তি করে। বিকেল সাড়ে ৩টায় জেলা বিএনপি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মলনে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপি সভপতি সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরী। বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক এমপি লুৎফুর রহমান কাজল, জেলা সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না ও ইউসুফ বদরী।

একই সময়ে একই ধরনের অভিযোগে পৌরসভার তারাবনিয়ার ছড়ায় নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে করে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়ে পুনর্নির্বাচনের দাবি তোলেন নাগরিক কমিটির মেয়র প্রার্থী জামায়াত নেতা সরওয়ার কামাল।

তিনি বলেন, এমন কোনো কেন্দ্র নেই যেখানে সরকার দলীয় প্রার্থীর পক্ষে অনিয়েমের আশ্রয় নেয়া হয়নি। অনেক কেন্দ্রে ভোট প্রদানের গোপন কক্ষ বলতে কিছু ছিল না। প্রকাশ্যে সিল মারতে হয়েছে। যা নজিরবিহীন। সাধারণের ভোটাধিকার হরণ করে গাজীপুর খূলনার মতো নির্বাচন হয়েছে।

একই অভিযোগে এবং একই সময়ে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন জাতীয় পার্টীর মেয়র প্রার্থী রুহুল আমিন সিকদার ও ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা জাহেদুর রহমান। তারা নিজের ফেসবুক পেজসহ অন্যান্য মাধ্যমে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন।

তবে নিজেদের পরাজয় নিশ্চিত জেনেই ভোটগ্রহণ শেষ হবার একটু আগে এমন প্রলাপ বকেছেন ওই ৪ মেয়র প্রার্থী- এমন দাবি করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মুজিবুর রহমান বলেছেন, ভোটগ্রহণে আওয়ামী লীগ কোনো অনিয়ম করেনি। প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতর থেকে সুষ্ঠুভাবে ভোট নেয়া হয়েছে। এতে নৌকা প্রতীকের লোকজন কোনো প্রভাব বিস্তার করেনি।

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা নৌকার পক্ষে গণজোয়ার দেখে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই ভোট ডাকাতির অভিযোগ তুলছেন দাবি করে মুজিবুর রহমান আরও বলেন, ভোটারদের প্রতি আমার শতভাগ আস্থা। তাদের রায়েই আমি বিপুল ভোটে জয়ী হবো। ফলে আমার ব্যালট ডাকাতির প্রয়োজন পড়েনি। আমরা শেষ সময় পর্যন্ত সুন্দর পরিবেশে ভোটগ্রহণ করতে প্রশাসনকে সহযোগিতা করেছি।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরাজুল হক টুটুল বলেন, দেশি ও বিদেশি পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতির মধ্য দিয়েই সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।

সায়ীদ আলমগীর/আরএআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।