‘কাজ করার দরকার কী?’
পার্বত্য খাগড়াছড়িতে কৃষি সেচ ড্রেন নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগে কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন স্থানীয় বিক্ষুব্ধ কৃষকরা। তাদের দাবি, এমন কাজ তারা চান না। যে কাজ জনগণের কাজে আসবেনা সে কাজ তাদের দরকার নেই।
মাটিরাঙ্গা উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের সীমান্ত ঘেঁষা মথুমগপাড়া এলাকায় প্রায় ৫শ একর জমিতে কৃষি সেচ সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে ফেনী নদীর পাশে বরুন কুমারের কৃষি জমির উপর দুই হাজার ফুট কৃষি সেচ ড্রেন নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড। প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির কাজ করছেন মো. শাহ জালাল নামে এক ঠিকাদার।
স্থানীয় কৃষক মো. মোসলেম মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কাজ করার দরকার কী? সরকারের ঘর থেকে টাকা তুলে নিলেই তো হয়।’
সরেজমিনে প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সিডিউল না মেনে যেনতেনভাবে প্রকল্পটির কাজ করেছেন ঠিকাদার। ইটের সলিংয়ের উপর তিন ইঞ্চি সিসি ঢালাই দিয়ে কাজ করার কথা থাকলেও সে নিয়ম মানা হয়নি। এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। যৎসামান্য সিমেন্টের সঙ্গে বালু মিশিয়ে দায়সারা ভাবে কাজটি করা হচ্ছে বলেও দাবি তাদের। ফলে কাজটি শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘ ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত প্রকল্পটি জনকল্যাণে কোনো ভূমিকাই রাখবে না।
আমতলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল গনি বলেন, এমন কাজ আমরা মেনে নেব না। আমি বিষয়টি জেনেই ঠিকাদারকে সিডিউল অনুযায়ী কাজ করার অনুরোধ করেছি। তিনি কথা দিয়েও সেভাবে কাজ করছেন না বলে জানিয়েছেন এ জনপ্রতিনিধি।
কাজে ‘সামান্য ত্রুটির’ বিষয়টি স্বীকার করে ঠিকাদার মো. শাহ জালাল বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলী আমাকে জানিয়েছেন। আমি তো এখনো টাকা নেইনি। কাজে ত্রুটি থাকলে তা ঠিক করা হবে। এখানে অনেকে কাজ না করেও টাকা নিয়ে গেছে। কিন্তু আপনারা (সাংবাদিকরা) সেগুলো দেখেন না।
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, খাগড়াছড়ির নির্বাহী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবু তাহের বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। আমাদের এসও সাইট পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। কাজটি সিডিউল মোতাবেক সম্পন্ন করতে ঠিকাদারকে বলেছি।
মুজিবুর রহমান ভুইয়া/এফএ/পিআর