মনে পড়ে সেই পিনাক-৬?

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মাদারীপুর
প্রকাশিত: ০৯:৫৮ এএম, ০৪ আগস্ট ২০১৮

২০১৪ সালের আজকের এই দিনে পদ্মায় স্মরণকালের ভয়াবহ নৌ-দুর্ঘটনায় আড়াই শতাধিক যাত্রী নিয়ে ডুবে যায় পিনাক-৬ নামের একটি লঞ্চ। উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে ২১ জনকে শিবচর পৌর কবরস্থানে অজ্ঞাতনামা হিসেবে দাফন করা হয়। চার বছরেও তাদের কারো পরিচয় শনাক্ত হয়নি। আজও পিনাক ট্র্যাজেডির কথা মনে পড়লে আতকে ওঠে মানুষ।

জানা যায়, ওই দুর্ঘটনায় ৪৯ জনের মরদেহ বিভিন্ন জেলা থেকে উদ্ধার করে শিবচরের পাঁচ্চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নিয়ে আসা হয়। নিখোঁজ হন ৬৪ জন। উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে ২১ জনকে শিবচরের পৌর কবরস্থানে অজ্ঞাতনামা হিসেবে দাফন করা হয়। রেখে দেয়া হয় ২১ জনের ডিএনএ টেস্টের নমুনাও। তবে চার বছরেও কেউ শনাক্ত করতে আসেনি মরদেহগুলো।

পিনাক ট্র্যাজেডির কথা মনে পড়লে আজও ভয়ে গা শিউরে ওঠে সাধারণ যাত্রীদের। আর যেন পিনাক-৬ এর মতো দুর্ঘটনা না ঘটে এমনটাই কাম্য তাদের।

লঞ্চ দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নিখোঁজ হীরা ও মুক্তার বাবা নুরুল হক বলেন, বছরের প্রতিটা দিনই আমাদের পিনাক দুর্ঘটনার কথা মনে পড়ে। আর এই বিশেষ দিনটি এলে আমরা শোকে পাথর হয়ে যাই। আমরা এখনও যেন সেই আতঙ্কের স্মৃতি বহন করে চলেছি। আমার দুই মেয়ে ও ভাগ্নি আমার হাত থেকে ছুটে নদীতে নিখোঁজ হয়। একজনের মরদেহ পেলেও বাকি দুজনকে আর খুঁজে পাইনি।

বিআইডব্লিউটিএ কাঁঠালবাড়ী ঘাটের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মো. আক্তার হোসেন বলেন, পিনাক-৬ লঞ্চ ডুবির পর খুব সাবধানতার সঙ্গে লঞ্চ চলাচল করে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ধারণক্ষমতার বাইরে যাত্রী ওঠানো হয় না। এছাড়াও ফিটনেসবিহীন কোনো লঞ্চ চলাচল করতে দেয়া হয় না।

শিবচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, ডিএনএ টেস্টের নমুনার সঙ্গে যদি কেউ প্রমাণ সাপেক্ষে মৃতদেহ শনাক্ত করতে আসে, তাহলে তারা চাইলে দেহবাশেষ নিতে পারবেন।

নাসিরুল হক/এফএ/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :